ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

বিদেশি বিনিয়োগে পিছিয়ে কেন বাংলাদেশ?

রেজাউল করিম খোকন, কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক
প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৭:০০ এএম

একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্ভর করে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর। উৎপাদন, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অবকাঠামো উন্নয়নÑ সবক্ষেত্রেই বিদেশি বিনিয়োগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশও গত কয়েক দশকে এ ধরনের বিনিয়োগ থেকে উল্লেখযোগ্য সুফল পেয়েছে। পোশাক ও টেক্সটাইল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), বিদ্যুৎ, টেলিকম, ওষুধ এবং অবকাঠামো খাতে বিদেশি মূলধনের প্রভাব দেশের প্রবৃদ্ধিকে ধারাবাহিকভাবে ত্বরান্বিত করেছে। ২০২২ সালে এফডিআই মানে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৬৭০.৭ মিলিয়ন ডলার, ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯২৪.৪ মিলিয়ন ডলার, ২০২৪ সালে কমে ৬৭৬.৬ মিলিয়ন ডলারে নামে, আবার ২০২৫ সালের প্রথম ৬ মাসেই পৌঁছে ১,০৯২.৯ মিলিয়ন ডলারে। এই তথ্য প্রমাণ করে যে বিনিয়োগ প্রবাহ আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। অর্থনীতিতে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব ও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এটা রপ্তানি বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। বিদেশি বিনিয়োগ রপ্তানিনির্ভর শিল্পকে গতিশীল করে তুলে।

বিএনপি সরকার তার নির্বাচনি ইশতেহারে বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করতে নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। অবশ্য বিদেশি বিনিয়োগ সব সময়ই কম পায় বাংলাদেশ। এমনকি তা আফ্রিকার দেশ উগান্ডা, ঘানা, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর মতো ছোট অর্থনীতির দেশের থেকেও কম। বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), অর্থাৎ অর্থনীতির আকার হচ্ছে ৫০১ বিলিয়ন (১ বিলিয়ন সমান ১০০ কোটি) ডলার। বাংলাদেশের তুলনায় উগান্ডার অর্থনীতির আকার সাত ভাগের এক ভাগ। দেশটি গত বছর ৩ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই পেয়েছে। একইভাবে ঘানা ও কঙ্গো অর্থনীতির আকারে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থেকে বেশি বিনিয়োগ পাচ্ছে।জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার (আঙ্কটাড) বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ১ হাজার ৬২৪ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই পেয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। আফ্রিকার এই ছোট তিন দেশ জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদে বড় বড় প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে। তার বিপরীতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ টানতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিযোগী দেশ ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ভালো বিনিয়োগ পাচ্ছে। অর্থনীতির সক্ষমতার তুলনায় বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগ অনেক কম।

২০১৫ সালে বাংলাদেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই এসেছিল। তবে পরে তা কমে যেতে থাকে ক্রমেই। ২০২০ সালে করোনা মহামারির পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। কোনো বছরই এফডিআই ২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি যায়নি। বিগত ছয় বছরের মধ্যে ২০২৪ সালে সর্বনি¤œ ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই আসে। ওই বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করেন। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ কমাটা স্বাভাবিক। ২০২৫ সালে বিনিয়োগ সাম্প্রতিক বছর পর্যায়ে গেছে। যেহেতু আগের বছর অস্বাভাবিক কম ছিল, সে কারণে গত বছর প্রবৃদ্ধি অনেক বেড়ে গেছে। শুধু এফডিআই নয়, নতুন বিনিয়োগ বা গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের সংখ্যাও কমছে বাংলাদেশের। ২০২৪ সালে নতুন প্রকল্পের বিনিয়োগ ছিল ১৭৩ কোটি ডলার। গত বছর সেটি প্রায় ২৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১৩৩ কোটি ডলারে। নতুন বিনিয়োগ আসা কমলেও বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশে বিনিয়োগ বাড়ছে। যদিও পরিমাণ এখনো খুবই কম। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ বিদেশে গেছে। গত বছর সেটি বেড়ে হয়েছে আড়াই কোটি ডলার। বাংলাদেশের চেয়ে এফডিআই প্রাপ্তিতে উগান্ডা, ঘানা ও ডি আর কঙ্গোর সাফল্যের পেছনে দেশগুলোর নীতি সংস্কার ভূমিকা রেখেছে। ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামা গত বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসার খরচ হ্রাস ও অভ্যন্তরীণ বাজার চাঙা করতে বেশ কিছু খাতে কর বাতিল করেন। উগান্ডা তাদের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষকে ওয়ান স্টপ সেন্টারে (এক দরজায় সব সেবা) রূপান্তর করেছে।

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পরের মাসেই সিঙ্গাপুরে বহুজাতিক দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) রিয়েল অ্যাসেট ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী পরিচালক পদে কর্মরত আশিক চৌধুরীকে বিডার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে তাকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যানও করা হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পরের মাসে এক অনুষ্ঠানে আশিক চৌধুরী বলেছিলেন, উদ্যোক্তাদের সমস্যা বুঝতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ২৩৫ জন প্রধান নির্বাহী ও কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। বিনিয়োগকারীরা তাকে বলেছেন যে তারা নীতির ধারাবাহিকতা চান। সম্পদের প্রাপ্যতা নিয়েও সঠিক তথ্য জানতে চান। দুর্নীতির বিষয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। গত অক্টোবরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ব্যবসা পরিবেশ সূচক বা ক্লাইমেট ইনডেক্সে (বিবিএক্স) প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশে বলার মতো কোনো উন্নতি হয়নি। উল্টো এক বছরে আইনকানুনের তথ্যপ্রাপ্তি, অবকাঠামোসুবিধা, শ্রম নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্য সহজীকরণ, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ ও মান, এই ছয় সূচকে পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে।

এখনো বিদেশি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো অনুমোদন, লাইসেন্স ও কর ব্যবস্থায় দুর্নীতি। অন্তর্বর্তী সরকার পরিবর্তনের ফলে নীতিগত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, যা বিনিয়োগ হ্রাস করেছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পরিবহন ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়েছে। আইন প্রয়োগের দুর্বলতা বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীন করে তুলেছে। ডলারের বিনিময় হার অস্থিরতা বিনিয়োগ ঝুঁকি বাড়িয়েছে। নীতিগত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন না হওয়াও বড় প্রতিবন্ধকতা। বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং সাম্প্রতিক তথ্যপ্রবাহ দেখাচ্ছে যে বিনিয়োগ পরিস্থিতি আবার শক্তিশালী হচ্ছে। তবে এই ধারা ধরে রাখতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দুর্নীতি দমন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নীতি বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়াতে হবে। সরকার, বেসরকারি খাত ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগই বাংলাদেশকে একটি বিনিয়োগবান্ধব, স্বচ্ছ ও টেকসই অর্থনীতি হিসেবে বিশ্বে শক্ত অবস্থান করে তুলতে পারে। অবকাঠামো সুবিধা, শ্রম নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্য সহজীকরণ, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ ও মানÑ এই ছয় সূচকে পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। ইরান যুদ্ধের পর জ্বালানির দাম বেড়েছে। যদিও চলতি অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন খাতে শুল্ক ও করে ছাড় দিয়েছেন। ব্যবসা সহজ করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। আবার বন্ধ কারখানা চালু করতে বড় অঙ্কের প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে সরকার।

তার বাইরে সহজে ব্যবসা করার বিষয়গুলো, যেমন নিবন্ধন, গ্যাস-বিদ্যুৎ প্রাপ্তি, অবকাঠামো, বন্দরের সক্ষমতা, দুর্নীতি আছে কি নেই ইত্যাদি বিষয় প্রাধান্য দেয় তারা। বিদেশি বিনিয়োগে আমরা কোথায় পিছিয়ে আছি, সেগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সরকারের একমুখী চিন্তা থাকতে হবে। রাজস্বের চেয়ে কর্মসংস্থানে বেশি জোর দিতে হবে। তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত স্থিতিশীলতা, সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নে ধারাবাহিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার বেসরকারি খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি মনে করে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং আরও বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন ও আইনের শাসন জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহজতর করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই বাংলাদেশের লক্ষ্য।

দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীরা যারা বিদেশে, বিশ্বের করে বিভিন্ন দেশে রয়েছেন, তারা যাতে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য ব্রেন ড্রেনকে ব্রেন সার্কুলেশনে রূপান্তরের পদক্ষেপ নিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং আরও বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন ও আইনের শাসন জোরদারে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এটা খুব দ্রুত তাদের সামনে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরতে হবে ।

নতুন সুযোগগুলো খুঁজতে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে এ সংক্রান্ত ‘রোডশো’ আয়োজন এবং নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে। আমরা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং বিকাশমান বেসরকারি খাত বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থার উৎস বলে মনে করি। দেশের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আরও সংস্কার প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি এবং একটি আরও বেশি পূর্বাভাসযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিনিয়োগ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল নীতি গ্রহণ করতে হবে, যেন বিনিয়োগকারীরা আস্থা পায়। বন্দর, রেল, বিদ্যুৎ ও লজিস্টিক খাতে বিশেষ বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বাণিজ্য আদালত কার্যকর করতে হবে। রপ্তানিমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে কর ছাড় ও সহজ ঋণ সুবিধা দিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগের চাহিদা অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করি।