২০২৬ সালে ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশ ক্রোয়েশিয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে ঢাকায় সরাসরি ভিসা প্রসেসিং সেবা শুরু হওয়ায় এখন আর দীর্ঘমেয়াদি ভিসার জন্য সশরীরে ভারত যাওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না। ভ্রমণ, কর্মসংস্থান কিংবা উচ্চশিক্ষা যেকোনো উদ্দেশ্যেই এখন ঢাকা থেকেই আবেদনের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।
সরাসরি ভিসা প্রসেসিং ও বাংলাদেশে নতুন কেন্দ্র
২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো বাংলাদেশে ঠঋঝ এষড়নধষ এবং ঝঃরপশবৎ ঠরংধ-এর মতো অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে সরাসরি প্রসেসিং সেবা। আগে ডি-টাইপ (উ-ঞুঢ়ব) বা দীর্ঘমেয়াদি ভিসার আবেদনের জন্য দিল্লি যাওয়ার যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা এখন অনেকাংশেই শিথিল হয়েছে। ঢাকার বনানীতে অবস্থিত ভিএফএস সেন্টারে এখন বায়োমেট্রিক এবং পাসপোর্ট জমা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আবেদনকারীদের সময় এবং খরচ উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
ভিসার ধরন ও ২০২৬ সালের আধুনিক ক্যাটাগরি
বর্তমানে বাংলাদেশিরা মূলত দুই ধরনের ভিসায় ক্রোয়েশিয়া যাচ্ছেন। প্রথমটি হলো শেনজেন সি-টাইপ ভিসা, যা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ, ব্যবসা বা পারিবারিক সাক্ষাতের জন্য সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থানের অনুমতি দেয়। দ্বিতীয়টি হলো ন্যাশনাল ডি-টাইপ ভিসা, যা মূলত ওয়ার্ক পারমিট বা স্টুডেন্টদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের সুযোগ করে দেয়। ২০২৬ সালে ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য বিশেষ ক্যাটাগরিও বেশ জনপ্রিয় হয়েছে, যেখানে ফ্রিল্যান্সাররা নির্দিষ্ট আয়ের প্রমাণ দেখিয়ে এক বছরের জন্য বসবাসের অনুমতি পাচ্ছেন।
ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রমবাজারের বর্তমান অবস্থা
২০২৬ সালে ক্রোয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দক্ষ ও অধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে নির্মাণ শিল্প, হসপিটালিটি, লজিস্টিক এবং কৃষি খাতে বেতন কাঠামো আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। বর্তমানে একজন সাধারণ কর্মী মাসে গড়ে ১,১০০ থেকে ১,৪০০ ইউরো (বাংলাদেশি ১,৪০,০০০-১,৮০,০০০ টাকার বেশি) আয় করতে পারছেন। নিয়োগকর্তার মাধ্যমে সরকার থেকে ‘ওয়ার্ক পারমিট’ অনুমোদন পাওয়ার পর ঢাকার কেন্দ্রগুলোতে আবেদন জমা দেওয়া এখন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ও নথিপত্র
ক্রোয়েশিয়া সফরের জন্য ২০২৬ সালে সঠিক ডকুমেন্টেশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনের জন্য ন্যূনতম এক বছর মেয়াদি পাসপোর্ট, শেনজেন স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ৩০,০০০ ইউরো কাভারেজের হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং গত ৬ মাসের সন্তোষজনক ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রয়োজন। কাজের ক্ষেত্রে অনুমোদিত চাকরির চুক্তিপত্র এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার থাকা বাধ্যতামূলক। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটটি অবশ্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত হতে হবে।
প্রসেসিং সময় ও আর্থিক সংগতি
২০২৬ সালে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার পর সাধারণত ৩০-৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানা যায়। তবে সরাসরি প্রসেসিং সেবা চালুর পর থেকে এই সময়সীমা অনেক ক্ষেত্রে কমে এসেছে। ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী আবেদন ফি এবং সার্ভিস চার্জে সামান্য তারতম্য হতে পারে, যা সাধারণত ৯০-১২০ ইউরোর সমপরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করতে হয়। ভ্রমণে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রতিদিনের খরচ মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সচ্ছলতা দেখানো ভিসা প্রাপ্তির সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়।
সতর্কতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
যেহেতু ক্রোয়েশিয়া এখন শেনজেন জোনের অংশ, তাই এই ভিসা ব্যবহার করে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও যাতায়াত করা সম্ভব। তবে সঠিক চ্যানেল বা অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করা জরুরি। দালালের মাধ্যমে ভুল তথ্য বা জাল নথিপত্র জমা দিলে ভিসা প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি থাকে। তাই সরকারি নির্দেশিকা মেনে ভিএফএস গ্লোবালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে সরাসরি অগ্রসর হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন