ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ধর্ষণের প্রতিবাদে সোচ্চার তারকারা

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২৬, ০১:৫১ এএম

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সি শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যাকা-ের ঘটনায় স্তব্ধ গোটা দেশ। এই নৃশংসতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। জঘন্য এ অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিনোদন জগতের এক ঝাঁক তারকা। শোবিজের সে সব তারকাদের বার্তা নিয়ে লিখেছেন রকিবুল ইসলাম আফ্রিদি

শাকিব খান

একটি শিশুর আর্তনাদ কখনোই শুধু একটি পরিবারের বেদনা হয়ে থাকে না, এই বেদনা আমাদের সবার! শিশু রামিসার সঙ্গে হওয়া এই নৃশংস ঘটনা পুরো সমাজের মানবিকতা, নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়! জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার বিলম্ব মানে ভুক্তভোগী পরিবারের যন্ত্রণা আরও দীর্ঘ করা। তাই এখন সময় আইনের কঠোর প্রয়োগ, যাতে আর কোনো রামিসাকে এভাবে নির্মমতার শিকার হতে না হয়।

আসিফ আকবর

যখন অপরাধী নিজেই অপরাধ স্বীকার করে, তখন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

রুমানা ইসলাম মুক্তি

এদের বিচার ৭ দিনের মধ্যে হওয়ার দাবি জানাই। এবং তাদের এমন বিচার হওয়া উচিত যা শুনে এমন বদমাইশগুলোর ধর্ষণের ‘ধ’-ও করার আগে আত্মা যেন কেঁপে ওঠে।

অপু বিশ্বাস

রামিসার মর্মান্তিক বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। একজন মা হিসেবে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। এমন নৃশংসতার বিচার চাই, আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়।

পড়শী

যেহেতু অপরাধী তার অপরাধ স্বীকার করেছে, তাই দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন হোক। দ্রুত বিচারের এই দাবিটুকু তো আমরা রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে করতেই পারি, তাই না?

কাজী মারুফ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব আপনিও বাবা, দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। একইসঙ্গে তিনি আইন পরিবর্তন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

রুকাইয়া জাহান চমক

ধর্ষণের বিচারের আইনগুলো পরিবর্তন না করলে, মানুষ তো আইন নিজের হাতে তুলে নিবে। ধর্ষকের ফাঁসি হবে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জনসম্মুখে।

মিশু সাব্বির

কোনোকিছুর মব জাস্টিস গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্ষণকরীর ক্ষেত্রে মব জাস্টিস অত্যাবশ্যকীয়। কারণ বাংলাদেশে এর কোনো জাস্টিস নাই।

শাহানাজ খুশি

আসামিকে কন্যার মা-বাপের হাতে ছেড়ে দেন, ওনারা নিজের হাতে বিচার করুক। ধরণী দ্বিধা হও! কোনো ঘরে আর কন্যাসন্তান জন্ম না নিক।

তমা মির্জা

কিসের তদন্ত? কিসের ব্যাখ্যা? ধর্ষণকারীর পক্ষে আবার কিসের উকিল? কিসের সময়ক্ষেপণ? ধর্ষণকারীর বিচার হবে ধর্ষণের শিকার যে, তার জানাজার আগে।

আজমেরী হক বাধন

নারী ও শিশুদের প্রতি এমন সহিংসতা বারবার আমাদের নাড়িয়ে দেয়, অথচ বিচার অনেক সময় অনিশ্চিত থেকে যায়। ভীষণ দুঃখিত ছোট্ট মা, তুমি আরও সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী পাওয়ার যোগ্য ছিলে।

পারসা ইভানা

লজ্জা লাগছে খুব, এই দেশে কোনো বিচার নেই। আমি বলতে চাই ধার করে হলেও যারা পারবেন বিদেশে চলে যান। এভাবে নিজের সন্তানদের দেখে মরে গিয়েও বেচে থাকার চেয়ে, দেশ ছাড়া অনেক ভালো।

খায়রুল বাসার

আমরা ভুলে যাব মেয়েটির নাম রামিসা। রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করা ইতর প্রাণীটার কেমন শাস্তি দিলেই বা তা শাস্তি হবে এবং তাও কত সহজ শাস্তি; তা ভেবেও অসহায় লাগছে।

মাসুমা রহমান নাবিলা

কেন মানুষ রূপে জন্ম নিয়েও সকলে হিংস্র প্রাণী হয়ে যাচ্ছে? সভ্য সমাজ বলতে কি আর কিছু আছে? কোথায় এর শেষ হবে? এত অসহায় লাগে।

প্রিয়ন্তী উর্বী

কিছু ঘটনা মানুষ ভুলে যায় না, শুধু চুপ করে বাঁচতে শিখে। আমিও শিখেছিলাম। তাই নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখি, যেন মাথার ভেতরের শব্দগুলো একটু শান্ত হয়। কিন্তু যখনই কোনো শিশুর অ্যাবিউজড কিংবা রেপের খবর দেখি, আমি ভেতর থেকে ভেঙে পড়ি। কারণ, ছোটবেলায় আমিও ইনঅ্যাপ্রোপিয়েট টাচ (আপত্তিকর স্পর্শ)-এর শিকার হয়েছিলাম। আমি আজও বিশ্বাস করি রেপিস্ট আর অ্যাবিউজারদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ, তারা শুধু একটা মানুষকে না, একটা শিশুর নিরাপত্তাবোধ, বিশ্বাস আর শৈশবকে মেরে ফেলে। আর একটা জিনিস আমি খুব বিশ্বাস করি, মানুষের কর্মের ফল একদিন না একদিন এই পৃথিবীতেই ফিরে আসে। আল্লাহ সব দেখেন।

পিয়া জান্নাতুল

ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই নারীর প্রতি সম্মান, ‘কনসেন্ট’ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দিতে হবে। কারণ ধর্ষণ শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, এটি একজন নারী ও তার পরিবারের জন্য আজীবনের মানসিক ট্রমা।

শোবিজ তারকাদের সবার কণ্ঠেই এখন একই সুরÑ আর কোনো আলোচনা বা সময়ক্ষেপণ নয়, রামিসা হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করে সমাজকে কলঙ্কমুক্ত করা হোক।