ঢাকা বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

তানিনহীন ১ বছর

রঙের মানুষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৬:৩৩ এএম

রুপালি পর্দার আলো ঝলমলে ভুবন ছেড়ে, মাত্র ৩২ বছর বয়সেই অনন্তের পথে পাড়ি জমান চিত্রনায়িকা তানিন সুবহা। যে হাসিতে একদা মজেছিল ছোট ও বড় পর্দা, সেই হাসিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিয়ে গত বছরের আজকের দিনে তিনি বিদায় নেন এই মায়াবী পৃথিবী থেকে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা যান এই নায়িকা। আজ তানিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।

২০২৫ সালের ২ জুন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তানিন। প্রথমে আফতাবনগরের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাসায় ফেরেন। তবে সন্ধ্যায় আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বনশ্রীর একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এই অভিনেত্রী।

তানিন সুবহার জন্ম মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার মোল্লারহাটে। তবে তার শৈশব কাটে বরিশালে নানাবাড়িতে। বাবার চাকরিসূত্রে পরিবারের সঙ্গে সৌদি আরবও থেকেছেন কয়েক বছর। ২০১২ সালে ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ ও ‘ম্যাঙ্গোলি নাচো বাংলাদেশ নাচো’ প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। বেশিদূর যেতে না পারলেও শোবিজে কাজ করার আগ্রহ জন্মায়। এরপর বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে শোবিজে নাম লেখান তিনি। অভিনয় করেন নাটক-সিনেমায়। ‘মাটির পরী’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয়, এরপর নাম লেখান বেশকিছু সিনেমায়।

‘মাটির পরী’ হয়ে যে সুবহার পথচলা শুরু হয়েছিল ঢালিউডের আঙিনায়, নিয়তির নির্মম পরিহাসে তিনি নিজেই আজ মাটির নিচে এক শান্ত পরী হয়ে রইলেন। তার অভিনীত ‘যমজ’, ‘ভালো থেকো’ কিংবা ‘তুই আমার’ চলচ্চিত্রগুলোর মতোই দর্শকের মনে আজীবন বেঁচে থাকবে তার এই অসময়ের চলে যাওয়ার ট্র্যাজেডি।

মাদারীপুরের কয়ারিয়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। জীবনের সব কোলাহল, আলো আর পর্দার মায়া পেছনে ফেলে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তার বাবার কবরের পাশে। পেছনে রেখে গেছেন দুটি অবুঝ কন্যাসন্তান আর এক বুক শূন্যতা।

তানিন অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমা হচ্ছে ‘মাটির পরী’, ‘ভালো থেকো’, ‘তুই আমার’, ‘দেমাগ’, ‘বেগম জান’, ‘বীর বাঙালি’, ‘রাজা রানীর গল্প’ ইত্যাদি।