করোনা-পরবর্তী সময়ে একের পর এক ব্লকবাস্টার হিট উপহার দিয়ে ঢাকাই সিনেমাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি হাজির হচ্ছেন সম্পূর্ণ নতুন অবয়বে, সম্পূর্ণ ভিন্ন এক গল্পে। গত বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া অ্যাকশনধর্মী এবং দেশপ্রেমের গল্পে নির্মিতব্য ‘সোলজার’ সিনেমার ক্যামেরা এখন চলছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে। আর এই শেষ লটের শুটিং ঘিরেই এখন মুখরিত থাই ফিল্ম সিটি।
জানা গেছে, ১৪ জুন থাইল্যান্ডে উড়ে যান শাকিব। গিয়েই অংশ নেন অ্যাকশন দৃশ্যে। এ সপ্তাহেই শেষ হচ্ছে সিনেমাটির পুরো দৃশ্য ধারণ। শাকিব ছাড়াও কেন্দ্রীয় চরিত্রের শিল্পীরা শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন বিজ্ঞাপন নির্মাতা সাকিব ফাহাদ। সিনেমাটির থাইল্যান্ড পার্টের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন অভিনেতা এবিএম সুমন। সিনেমাটির গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে তাকে দেখা যাবে।
‘সোলজার’ সিনেমার অফিসিয়াল মোশন পোস্টারটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই দর্শকদের আগ্রহের পারদ ছিল তুঙ্গে। পোস্টারের শেষে শাকিব খানের অবিন্যস্ত চুল-দাড়ি, কপালে ও গালে আঘাতের চিহ্ন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে এক তীব্র আকুলতার চিৎকার সবাইকে চমকে দিয়েছিল। ব্যাকগ্রাউন্ডে তার কণ্ঠের একটি সংলাপÑ ‘দেশ কি আপনার জন্য, নাকি আপনি দেশের জন্য ইঙ্গিত দেয় সিনেমাটির গভীরতার’। এটি কেবল সাধারণ কোনো মারপিটের সিনেমা নয়, বরং দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষের বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের গল্প।
সিনেমা সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘জেন-জি’ থেকে শুরু করে সব শ্রেণির দর্শক এখানে আধুনিক ও সমসাময়িক এক দেশ প্রেমের গল্প দেখতে পাবেন।
‘সোলজার’ সিনেমাটির জন্য কারিগরি ও নির্মাণ কৌশলে কোনো আপস করেননি নির্মাতা। প্রায় শতাধিক দেশি ও বিদেশি টেকনিশিয়ানের উপস্থিতিতে ব্যাংককের চোখধাঁধানো লোকেশনে চলছে এর দৃশ্যধারণ। হলিউড এবং বলিউডের অ্যাকশন সিনেমার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন স্ট্যান্ট ডিরেক্টরদের ডিজাইনে তৈরি হয়েছে সিনেমাটির ক্লাইম্যাক্স। থাইল্যান্ডের শেষ লটের শুটিংয়ে বৃষ্টিভেজা এক বৈরি পরিবেশে শাকিব খানের একটি হাই-ভোল্টেজ ফাইট সিকোয়েন্সের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সিনেমাটির ক্যামেরার দায়িত্বে আছেন ‘মনপুরা’, ‘হাওয়া’ ও ‘দেবী’খ্যাত গুণী চিত্রগ্রাহক কামরুল হাসান খসরু।
সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড প্রযোজিত এই সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে প্রথমবার দেখা যাবে দুই ভিন্ন ধারার নায়িকাকেÑ টেলিভিশনের তুমুল জনপ্রিয় মুখ তানজিন তিশা এবং বড় পর্দার জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। শুধু তাই নয়, সিনেমাটির গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রবীণ অভিনেতা তারিক আনাম খান ও নির্মাতা-অভিনেতা তৌকীর আহমেদ। এ ছাড়া বড় চমক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ঢাকা অ্যাটাক-খ্যাত অভিনেতা এবিএম সুমন, যিনি সিনেমাটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও (বিশেষ চরিত্র) দিচ্ছেন।
সাধারণত শাকিব খানের বড় বাজেটের সিনেমা মানেই ঈদের উৎসবের আমেজ। তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতা ‘সোলজার’ নিয়ে হাঁটছেন ভিন্ন পথে। তারা সিনেমাটি কোনো ঈদের আমেজে নয়, বরং বছরের সাধারণ সময়ে মুক্তি দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে বড়সড় একটি ধাক্কা দিতে চান।
ব্যাংককের শুটিং এবং গানের কাজ পুরোপুরি শেষ করে পুরো দল দেশে ফিরলেই শুরু হবে এর পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ। নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর (দুর্গাপূজা) কিংবা ডিসেম্বর নাগাদ সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে।
সব মিলিয়ে, ব্যাংককের শেষ লটের শুটিং দিয়ে ‘সোলজার’ তার চূড়ান্ত রূপ ধারণ করছে। এখন অপেক্ষা পর্দায় শাকিব খানের এই নতুন লড়াই এবং আধুনিক দেশপ্রেমের গল্পটি উপভোগ করার।

