ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সরিষার হলুদ ফুলে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০৭:২৫ এএম

যশোরের অভয়নগর উপজেলার মাঠজুড়ে এখন শুধু হলুদের ছোয়া। চোখ যতদূর যায়, ফসলের মাঠজুড়ে কেবল সরিষা ফুলের হলুদ আভা। ফুলের উজ্জ্বলতায় সোনালি কার্পেটের মতো সাজানো মাঠ দুলছে শীতের হিমেল বাতাসে। যে কেউ দেখলে মনে করবে, শুধু ফসলের খেত নয়Ñ এ যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস, যা সৌন্দর্যের পাশাপাশি কৃষকের স্বপ্নও লালন করছে।

এদিকে অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো চাষ ও উন্নত জাতের বীজের ব্যবহারে চলতি মৌসুমে সরিষার আবাদ ও ফলন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে বাম্পার ফলনের আশা জেগেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার প্রায় সব মাঠের ফসলি জমিতেই এবার সরিষার আবাদ হয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ সরিষা ফুলের গালিচা প্রকৃতিপ্রেমীদের যেমন মুগ্ধ করছে, তেমনি কৃষকদের মনেও জাগাচ্ছে আশার আলো। পড়ন্ত বিকেলে বাসন্তী রঙের সাজে তরুণ-তরুণীরা ক্যামেরাবন্দি করছেন গ্রামীণ সৌন্দর্যের মনোমুগ্ধকর মুহূর্ত। মৌয়ালরা মাঠজুড়ে মৌবাক্স স্থাপন করায় মধু উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে পরাগায়নের মাধ্যমে সরিষার ফলনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরিষা চাষে খরচ তুলনামূলক কম এবং পরিশ্রমও কম। বাজারে সরিষা ফুল ও কচিপাতার ভালো চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি সরিষা তোলার পর গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় সেটিও বিক্রি করা যায়। ফলে স্বল্প ব্যয়ে অধিক লাভের সম্ভাবনায় দিন দিন সরিষার আবাদ বাড়ছে।

এ বছর উপজেলার বিভিন্ন মাঠে উচ্চ ফলনশীল সরিষার জাত টরি-৭, রাই-৫, কল্যানিয়া, সোনালি সম্পদ ও বারি-৮ চাষ করা হয়েছে। এসব জাতের তেলের মান ভালো হওয়ায় বাজারেও চাহিদা বেশি বলে জানান কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে এক হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ১০০ কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে সরিষার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও সার্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ভালো ফলনের আশা করছি।