ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যমুনায় পথ হারা ৫০ বরযাত্রী উদ্ধার

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৭:১৭ এএম

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ঘন কুয়াশায় পথ হারিয়ে যমুনা নদীর ডুবোচরে আটকে পড়া ৫০ জন বরযাত্রীকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত বুধবার রাতে সেনাবাহিনীর সারিয়াকান্দি ক্যাম্পের টহল টিম কালিতলা নৌঘাট থেকে তাদের উদ্ধার করে। তীব্র শীতে সেনাবাহিনীর এমন কাজ স্থানীয় জনগণ ও বরযাত্রীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

জানা যায়, গত বুধবার সকালে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের মাঝবাড়ি গ্রামের মো. খোরশেদ আলমের ছেলে শাকিল আহমেদের (২৩) বিয়ে উপলক্ষে ৫০ জন বরযাত্রী নিয়ে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা গ্রামে যান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যায় বর-কনেসহ বরযাত্রীরা নৌকাযোগে ইসলামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। নৌকাটি যমুনার মাঝনদীতে পৌঁছালে ঘন কুয়াশার কারণে নৌকার মাঝি দিকনির্দেশনা হারিয়ে ডুবোচরে আটকে যায়। রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পথ খোঁজার চেষ্টা করেও কুয়াশার কারণে কোনো দিকনির্দেশনা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নৌকাটি কালিতলা নৌঘাটে নোঙর করেন।

তীব্র ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় বরযাত্রীরা কোনো উপায় না পেয়ে নৌঘাটের খোলা একটা দোকানে আশ্রয় নেয়। বিষয়টি সেনাবাহিনীর সারিয়াকান্দি ক্যাম্পের টহল টিমের নজরে এলে ভুক্তভোগীদের সেনা ক্যাম্পে আশ্রয় দেন। এ সময় ক্যাম্পে বরযাত্রীদের কম্বল, সোয়েটার, খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাদের নাশতা করিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে নৌকায় পৌঁছে দেন।

বরযাত্রীর নৌকায় থাকা ইসলামপুর উপজেলা নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের মাঝবাড়ি গ্রামের আনোয়ারা বেগম (৬০) বলেন, আমার নাতিকে বিয়ে করাতে এখানে আসি। বাড়ি ফেরার পথে ঘন কুয়াশায় পথ হারিয়ে ডুবোচরে আটকে যাই। কোনো উপায় না পেয়ে নদীর পাড়েই আশ্রয় নেই। এমন সময় সেনাবাহিনী আমাদের খোঁজ পায়। তখন তারা সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে আসে। সেখানে থাকার ঘর, কম্বল, সোয়েটার, খাবারসহ অনেক যতœ করেন।

একই গ্রামের মো. আছাদ (৬০) বলেন, আমরা কোনো উপায় না পেয়ে তীব্র শীতের মধ্যে নদীর পাড়ে অনেক কষ্ট করছিলাম। এই কষ্ট দেখে সেনাবাহিনী আমাদের উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। আমরা সেনাবাহিনীর কাছে ঋণী হয়ে গেলাম। তাদের এই সহায়তা আমরা কোনোদিনও ভুলব না। আল্লাহ যেন তাদের সুস্থ রাখে।