ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাঁশের ভরসায় বাঁচা-মরার যাত্রা

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ০২:২১ এএম

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের জোড়াপুল ও জুম্মারপাড় এলাকায় সানিয়াজান নদীর ওপর প্রায় চার দশকেও নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী সেতু। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয়দের জন্য।

জোড়াপুল এলাকায় নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ১৫ ফুট উঁচু নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন পারাপার করছেন অন্তত ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষ। যে কোনো সময় সাঁকোটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বর্ষা ও শুষ্ক উভয় মৌসুমেই নদীর দক্ষিণ অংশে চলাচলের জন্য স্থানীয়দের এই অস্থায়ী সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কয়েক দফা স্থান পরিদর্শন করে মাটি পরীক্ষা ও পরিমাপ করলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই মিলেছে।

স্থানীয় উদ্যোগ ও অর্থায়নে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট এবং বর্ষা মৌসুমে ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। তবে নির্দিষ্ট সময় পর সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে এবং চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, রোগী, নারী-পুরুষ ও শিশু এই সাঁকো ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। ইতোমধ্যে অনেকে নদীতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। সময়মতো অসুস্থ বা দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে না পারায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি আহমেদ হায়দার জামান বলেন, ওই স্থানে ১০৪ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে টেন্ডারিং ও এপিপি পর্যায়ে আছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হলে দ্রুত সেতু নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।