ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সাহায্যের আবেদন

বাঁচতে চায় সনজিদ চন্দ্র

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ১২:০৬ এএম

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের ৪১ বছর বয়সি সনজিদ চন্দ্র দাস। পেশায় তিনি নরসুন্দর, সেলুনে কাজ করেই চালান পাঁচজনের সংসার। নিজের বাড়ি নেই। মন্দিরের জায়গায় ভাঙাচোরা টিন দিয়ে দোচালা ঘর তুলে কোনোরকমে বসবাস করছেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও ছোট্ট দুই সন্তানকে নিয়ে। সেই ভাঙা ঘরের টিনের ফাঁক গলে যখন ঠিকরে পড়ছে আলো তখন সনজিদের জীবন প্রদীপ নিভু নিভু। গত ৬ মাস আগে ডাক্তার বলে দিয়েছেন সনজিদের হাটের্র ভাল্ব নষ্ট হয়ে বড় হয়ে ছিদ্র হয়ে গেছে রক্তনালি। ব্যয়বহুল এমন রোগের কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লেও সামান্য যা সম্বল ছিল তাই নিয়ে চিকিৎসার জন্য চলে যান ইন্ডিয়া। সেখান থেকেও ডাক্তার বলে দিয়েছেন ৩ মাসের মধ্যে অপারেশন করাতে হবে। যার জন্য খরচ হবে ১২-১৩ লাখ টাকা। সামান্য নাপিতের কাজ করা সহায়সম্বলহীন সনজিদের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব। সামান্য রোজগারে বৃদ্ধ মা আর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চললেও উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছোট্ট দুই শিশুর পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে এরই মধ্যে। অপরদিকে একমাত্র উপার্জনক্ষম সনজিদের এ অবস্থার জন্য দুবেলা খাবার জোগানও কঠিন হয়ে গেছে পরিবারের।

সরেজমিনে দেখা যায়, মলিন বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে অসুস্থ সনজিদ আর পাশে বসে পাখা দিয়ে বাতাস করছে স্ত্রী লিপি রানী দাস। অজানা এক আতঙ্কে হাতের পাখাটাও ভারী হয়ে গেছে তার। একরাশ হতাশা আর অজানা আশঙ্কা নিয়ে সনজিদের স্ত্রী লিপি রানী বলেন, দারিদ্র্য তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হলেও পাঁচজনের সংসারে একমাত্র ভরসা স্বামী। সেই স্বামী অসুস্থ হওয়ায় চারদিক তার অন্ধকার। বিত্তবানদের আর্থিক সহযোগিতায় তার স্বামী সুস্থ হলে অবুঝ সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকার অবলম্বন পাবেন।

অপরদিকে সনজিদের বৃদ্ধ মা সন্তানের এমন দুরবস্থা দেখে কাঁদতে কাঁদতে শুকিয়ে ফেলেছেন চোখের জল। গভীর হতাশা নিয়ে কেবল ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে সন্তানের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা কামনা করেন মানুষের।

এদিকে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া সনজিদের স্কুল পড়–য়া ছেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, তার বাবাকে সুস্থ করতে অনেক টাকা লাগবে। তাই বাবার সুস্থতার জন্য আর্থিক সহযোগিতা চাই। দরিদ্র নরসুন্দর সনজিদ চন্দ্র দাসের চিকিৎসার জন্য তার বিকাশ নং-০১৯৪৭৪৬৮৪০৮-এ সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে পরিবার।