ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিচার দাবিতে মানববন্ধন

কৃষকের জমির সরিষা কেটে নিল প্রতিপক্ষ

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ১২:৪২ এএম

নাটোরের সিংড়ায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে এক কৃষকের আবাদকৃত প্রায় এক বিঘা জমির পাকা সরিষা দিনের বেলা কেটে নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি এলাকাবাসীকে নিয়ে প্রতিবাদসভা ও মানববন্ধন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের গুটিয়া মহিষমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী কৃষকের নাম মতলেব হোসেন, তিনি পার্শ্ববর্তী বিলদহর গ্রামের বাসিন্দা। কৃষক মতলেব হোসেনের দাবি, তার আবাদ করা প্রায় এক বিঘা জমির সরিষা জোরপূর্বক কেটে নেওয়ায় তার প্রায় ৫০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এই ঘটনায় তিনি দড়ি মহিষমারী গ্রামের হাশেম আলীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলামসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে বিবাদী করে সিংড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মতলেব হোসেন জানান, ২০০৮ সালে তিনি গুটিয়া মহিষমারী গ্রামে (নজরপুর মৌজা) ৭২ শতাংশ জমি ক্রয় করে নামজারি ও খাজনা সম্পন্ন করে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে প্রতিপক্ষ রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবার জমির মালিকানা দাবি করে নাটোর জজকোর্টে মামলা করেন। দীর্ঘদিন মামলা চলার পর আদালত মতলেব হোসেনের পক্ষেই রায় প্রদান করেন এবং প্রতিপক্ষের মামলাটি খারিজ করে দেন।

তিনি আরও বলেন, আদালতের রায় পাওয়ার পর আমি চলতি মৌসুমে ওই জমিতে সরিষার আবাদ করি। ফসল পেকে যাওয়ায় দু-এক দিনের মধ্যেই ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু ঘটনার দিন সকালে রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে আমার জমির সরিষা জোর করে কেটে নিয়ে যায়। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।

এদিকে ফসলের ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে ওই জমিতেই মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তব্য দেনÑ বিলদহর গ্রামের আব্দুল মতিন, গুটিয়া মহিষমারী গ্রামের আক্কাস আলী, কামাল পাশা প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আদালতের রায় অমান্য করে এবং অন্যের কষ্টার্জিত ফসল লুট করা দ-নীয় অপরাধ। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ও হাসেম আলী দাবি করেন, তারা অন্যের জমির ফসল কাটেননি। তাদের দাবি, জমিটি তাদের নিজস্ব এবং তারা নিজেদের জমির সরিষাই ঘরে তুলেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

সিংড়া থানার ওসি আ স ম আব্দুল নূর বলেন, সরিষা কেটে নেওয়ার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।