ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বিএনপির সমর্থক দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। গতকাল রোববার দুপুরে শিমরাইল মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে শিমরাইল মোড় এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজা ও মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে অবৈধ দখলদার ও হকার উচ্ছেদে পূর্বনির্ধারিত অভিযান শুরু হয়। অভিযান চলাকালেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবির ছেলে যুবদল নেতা রিয়াজুল ইসলাম রিনাজ, রতন ও রানাসহ ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল এলাকায় মহড়া দিচ্ছিল। এ সময় নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাদির গ্রুপের সমর্থক জিহাদ, রবিনসহ ১০-১২ জনের একটি দলের সঙ্গে তাদের তপ্ত বাগবিত-া শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুরো শিমরাইল মোড় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং সাধারণ পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে শিমরাইল মোড়ে দায়িত্বরত পুলিশ ও অতিরিক্ত ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের তৎপরতায় দুই পক্ষই ছত্রভঙ্গ হয়ে গলি ও পাশের এলাকায় পালিয়ে যায়। সংঘর্ষের কারণে সওজের উচ্ছেদ অভিযানে সাময়িক বিঘœ ঘটে। সংঘর্ষের বিষয়ে মন্তব্য জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাদিরের ফোনে কল করা হলে তিনি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বর্তমানে শিমরাইল মোড় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ অ্যাকশনে যায়। তবে এই মারামারি উচ্ছেদ অভিযান বা ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে নয়; প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মাইক্রোবাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে।

