গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় কৃষক লীগ নেতার প্রভাব খাটিয়ে জমি জবরদখল, দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কড়িহাতা ইউনিয়নের হিজুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেতার ছোট ভাই মোশারফ সরকার, আলতাফ হোসেন সরকার এবং তাদের ভাতিজা লুৎফর মেম্বার। তারা মৃত আব্দুল মান্নান সরকারের পরিবারের সদস্য।
ভুক্তভোগী মো. আরিফ, মোজাম্মেল হক ও আবুল কালাম আজাদ জানান, তারা ২০২৫ ও ২০২৬ সালে দুটি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে হিজুলিয়া মৌজার আরএস ১১৮ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ৫৮, ৫৯ ও ৪০৪ নম্বর দাগ থেকে মোট ২০ শতাংশ জমি বৈধভাবে কেনেন। জমির মালিক ছিলেন মো. বজলুল রশীদ মোল্যা ও মো. দেলোয়ার হোসেন হিরন।
তাদের দাবি, জমির মালিকেরা প্রবাসে থাকায় তাদের সহোদর ভাই আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দেখাশোনা করে আসছিলেন। সেখানে একটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয় এবং কলাবাগানসহ বিভিন্ন ফলদ গাছ রোপণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত রমজান মাসের ১০ তারিখে অভিযুক্তরা কৃষক লীগ নেতা আব্দুর রশিদ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে দোকানঘর ভেঙে ফেলে এবং ভেতরের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে কলাবাগান ও অন্যান্য ফলদ গাছ কেটে ফেলা হয়। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, তাদের জমি দখল করতে নানা ধরনের চাপ দেওয়া হচ্ছে। প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং জমিতে গেলে প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এতে তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কাপাসিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযুক্ত আলতাফ হোসেন সরকার ও স্থানীয় ইউপি সদস্য লুৎফর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, জমিটি তাদের এক নিকট আত্মীয়ের ছিল এবং এলাকার যুবসমাজের খেলার মাঠ হিসেবে জমিটির প্রয়োজন রয়েছে। তারা দাবি করেন, জমি কেনার আগে খরিদদারদের নিষেধ করা হয়েছিল। এর পরও জমি কেনার কারণে এলাকায় বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা একজোট হয়ে জমিটি মাঠ হিসেবে দখলের চেষ্টা করছেন বলেও তারা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

