ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বরিশালের উজিরপুর

মৃতপ্রায় খালে বিপাকে কৃষক

বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ০৭:০৯ এএম

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় একসময়ের খরস্রোতা ‘গুপ্ত খাল’ এখন মৃতপ্রায়। নাব্য সংকটে খালের পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই তীরের কয়েকশ কৃষক। সেচের প্রাকৃতিক উৎস হারিয়ে এখন ধানের বিনিময়ে বেসরকারি পাম্প মালিকদের কাছ থেকে পানি নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বোরো চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুপ্ত খালটির দুই প্রান্তই সন্ধ্যা নদীর সঙ্গে যুক্ত। এক প্রান্ত শিকারপুর ইউনিয়নের জিজি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকা এবং অন্য প্রান্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরের দক্ষিণে মাদ্রাসি গ্রামসংলগ্ন সন্ধ্যা নদী। কয়েক বছর আগেও জোয়ার-ভাটার সময় নদীর পানি এক প্রান্ত দিয়ে ঢুকে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হয়ে যেত। এই খালের পানি ব্যবহার করেই প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে ধানসহ নানা ফসলের আবাদ করতেন কৃষকরা।

তবে দীর্ঘদিন ধরে পুনর্খনন না করা এবং অবৈধ দখলের ফলে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। বর্তমানে শুধু বর্ষা মৌসুমে সামান্য পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে এটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। মূলত সন্ধ্যা নদীর পানির স্তর নিচে নেমে গেলে খালে আর পানি প্রবেশ করতে পারে না।

খাল শুকিয়ে যাওয়ায় চাষিদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছেন সেচপাম্প মালিকরা। বর্তমানে নদীর মোহনায় পাম্প বসিয়ে কৃত্রিমভাবে খালে পানি তুলে তা বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, এই ‘সেচ স্কিম’ বা ব্যবস্থাপনায় পানি নিতে হলে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে।

মাদ্রাসি গ্রামের কৃষক দুলাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে খালের পানিতেই আমাগো চাষাবাদ হইতো। এহন খাল শুকাইয়া যাওয়ায় পাম্পওয়ালগো কাছে জিম্মি হইয়া গেছি। ২০ শতক জমিতে পানি নিতে তিন শতক জমির ধান দিয়া দিতে হয়। এত খরচ দিয়া ধান চাষ কইরা আমাগো আর কিছুই থাকে না। অনেক চষি তো এহন আবাদই ছাইড়া দিছে।’

একই এলাকার আরেক কৃষক মজিবর রহমান বলেন, খালটা খনন করা খুব দরকার। নদীর পানি খালে ঢুকতে পারলে আমাগো আর ধান দিয়া পানি কিনতে হইতো না। আমরা মেলা দিন ধইরা খাল খননের দাবি জানাইয়া আসতাছি, কিন্তু কেউ দেহে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কপিল বিশ^াস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে সন্ধ্যা নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গুপ্ত খালে পানি ঢুকতে পারছে না। এই সুযোগে একটি চক্র সেচ নিয়ে বাণিজ্য চালাচ্ছে। প্রতি ২০ শতক জমির সেচের বিনিময়ে ৩ শতক জমির ধান নেওয়া হচ্ছে বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এরই মধ্যে খালটি পুনর্খননের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে।