ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সালিশ বৈঠকে বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ০৬:৩৫ এএম

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক সালিশ বৈঠকে আলিমুদ্দীন (৫২) নামের এক বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউল আলম সুজনের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলিমুদ্দীন শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এবং কুমিরপাড়ার মৃত ঝড়ু ম-লের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলিমুদ্দীনের ভাইয়ের ছেলে জিয়াউর রহমান অভিযুক্ত লিয়াকত আলীর কাছে ভুট্টা বিক্রির ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিলেন। এই পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সালিশ চলাকালীন উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত লিয়াকত আলী, তার ছেলে আলামিন এবং আরিফের ছেলে আরাফাত মিলে আলিমুদ্দীনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ভাই কালু ম-ল বলেন, ‘সালিশ সভায় সবার সামনে আমার ভাইকে মারধর করা হয়। পরে আহত অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমি এই হত্যাকা-ের বিচার চাই।’

শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউল আলম সুজন আলী বলেন, ব্যবসার টাকা নিয়ে তাদের লেনদেন শুরু হয়েছিল। আলিমুদ্দীন টাকা আদায়ের জন্য সালিশ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক এ সময় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজান রহমান বলেন, খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানসহ পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।