কুমিল্লার লাকসাম পৌর শহরের একটি শতবর্ষী পুকুর রাতের আঁধারে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে ভরাটকৃত বালু প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির ঘোষণা দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাকসাম-শ্রীয়াং সড়কের পশ্চিমগাঁও জোড়পুকুরের পূর্ব পাশের শতবর্ষী বৃহৎ পুকুরটি একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে বালু ফেলে ভরাট করে। গত রোববার সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নার্গিস সুলতানা ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে পুকুর ভরাটের সত্যতা পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। পরে ভরাটে ব্যবহৃত কয়েক লাখ টাকার বালু প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিলন চাকমা, থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, লাকসাম উপজেলা ও পৌর এলাকায় পুকুর, খাল, নালা ও ডোবা ভরাটের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। কিছু অসাধু চক্রের কারণে খাল ও নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা আরও বলেন, জলাশয় ভরাটের কারণে স্থানীয় বাস্তুসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং অগ্নিনির্বাপণের পানির উৎসও কমে যাচ্ছে। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন ও জলাশয় ভরাটের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পড়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুকুর, ডোবা, খাল ও জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

