ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

লে-আউট বদলে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০৮:১০ এএম

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় এলজিইডির একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে লে-আউট পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, টেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে কাজ না করে জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের সুবিধামতো অন্যত্র সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে উপজেলা এলজিইডি। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের সুমাইখালী থেকে কামতলা-বিষ্ণুপুর বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। উপজেলা সদর থেকে নেত্রকোনা জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ হাজার ২৫০ মিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ হওয়ার কথা। কিন্তু টেন্ডারে নির্ধারিত স্থানে কাজ না করে সড়কের লে-আউট পরিবর্তন করে অন্যদিকে নির্মাণকাজ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, যেখানে রাস্তা নির্মাণ হওয়ার কথা ছিল সেখানে কাজ না করে স্থানীয় মেম্বারদের সুবিধামতো অন্যত্র রাস্তা নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলাকার সাধারণ মানুষ ও কৃষকেরা সরাসরি উপকৃত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিকল্পনা পরিবর্তনের কারণে জনসাধারণ কাক্সিক্ষত সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও বর্তমান ইউপি সদস্য লুৎফর রহমানের যোগসাজশে উপজেলা প্রকৌশলী আইডিবিহীন একটি স্থানে ইতোমধ্যে আরসিসি ইউ-ড্রেনের বেজ ঢালাই কাজ শুরু করেছেন, যা বিধিবহির্ভূত বলে দাবি করছেন তারা। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের শেষপ্রান্তে রয়েছে কামতলা-বিষ্ণুপুর বাজার এবং মগড়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৮১ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতু। এ ছাড়া আশপাশে রয়েছে একাধিক মাছের খামার। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তা নির্মাণ না হলে যোগাযোগব্যবস্থা, বাজার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এলাকাবাসী দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, সরকারি অর্থে বাস্তবায়ন হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি মেম্বার থাকাকালে ওই দিকেই পরিমাপ করা হয়েছিল। বর্তমান কাজের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

আটপাড়া উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী সাহেল মিয়া বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরেজমিনে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোনা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এ ধরনের অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সুমাইখালী থেকে কামতলা-বিষ্ণুপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৭০ মিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।