জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক সাবিহা কবীরের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, ব্যক্তিগত আক্রোশ, চরম অব্যবস্থাপনা ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী খেলোয়াড়েরা। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন ফুটবল ও ভলিবল দলের ভুক্তভোগী খেলোয়াড়েরা।
খেলোয়াড়দের অভিযোগ, সাবিহা কবীর দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে দল নির্বাচন করেন এবং অনুশীলনে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকেন। এ ছাড়া মেয়েদের খেলার বাজেটে বৈষম্য করা এবং মাঠ ও মাঠের বাইরে অপমানজনক আচরণ করে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। খেলোয়াড়েরা জানান, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের খেলায় বাজেট সংকট লেগেই থাকে। বাজেট অনুমোদিত হলেও অনেক সময় তাদের অর্ধেক দৈনিক ভাতা দেওয়া হয় এবং অনুশীলনে পর্যাপ্ত সরঞ্জামেরও তীব্র অভাব রয়েছে।
অভিযোগপত্রে নারী খেলোয়াড়েরা সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, গত ১৩-১৪ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে দায়িত্বে থাকা সাবিহা কবীর খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেন। খেলা চলাকালীন তিনি মাঠে বলেন, ‘আমরা হাফ টাইম খেলে, গোল খেয়ে ওদের ম্যাচ জিতিয়ে দিয়ে চলে যাব’, যা খেলোয়াড়দের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ছিল। এছাড়া গত ১৫ মে ভলিবল দলের টুর্নামেন্টেও তিনি কোর্টের ভেতরে ঢুকে বকাবকি করেন এবং ভুল নির্দেশনা দিয়ে ম্যাচ হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়ান বলে অভিযোগ উঠেছে। কোচের এমন লাগাতার দুর্ব্যবহারের কারণে এক খেলোয়াড়কে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে একাডেমিক পরীক্ষায় রিটেক দিতে হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়েরা অভিযোগপত্রে ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলো হলোÑ সাবিহা কবীরের যোগ্যতা যাচাই ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা; মেয়েদের সব খেলায় পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও স্বচ্ছতা আনা; রাজনৈতিক বিবেচনা উপেক্ষা করে দক্ষ কোচ নিয়োগ; অনুশীলনে মানসম্মত সরঞ্জাম নিশ্চিতকরণ; প্র্যাকটিস অ্যাটেনডেন্স ফি তাৎক্ষণিক প্রদান এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে টিম সিলেকশনে জালিয়াতি বন্ধ করা।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের বিষয়ে সাবিহা কবীর বলেন, ‘আমি আমার বিষয়ে কোনো অভিযোগপত্র পাইনি।’ পরবর্তীতে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জানতে চাইলে জাবির উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা অভিযোগপত্রটি পেয়েছি এবং বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পরবর্তীতে কোনো টিম কোথাও পাঠানোর আগে যেন আমার অনুমোদন নেওয়া হয়।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন