ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

স্কুল মাঠে পশুর হাট বসানো নিয়ে বিতর্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ০৬:৫২ এএম

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে দুই বছর বিরতির পর ফের পশুর হাট বসানো হয়েছে। এমপিও বন্ধের শাস্তি বহাল থাকলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকারের অনুমতিতে ইজারাদারের সঙ্গে যোগসাজশে গত এক সপ্তাহ ধরে সেখানে পশু বেচাকেনা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুল মাঠজুড়ে শত শত গরু-ছাগল নিয়ে হাট বসেছে। মাঠের বিভিন্ন স্থানে গোবর ও পশুর বর্জ্যে নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সেখানে পশু কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, ইজারাদার ও প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতির কথা বলে স্কুল মাঠে ফের পশুর হাট বসিয়েছেন। তবে প্রশাসন বিষয়টি জানার পরও হাট বন্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে দাবি তাদের।

এর আগে ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে স্কুল মাঠ থেকে পশুর হাট সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে দুর্গাপুর হাটের আলী কালি মার্কেটের পেছনের মাঠে পশুর হাট বসানো হচ্ছিল। কিন্তু দুই বছর না যেতেই আবারও স্কুল মাঠে পশুর হাট বসানো শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, এর আগেও স্কুল মাঠে পশুর হাট বসানো এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বাবদ টাকা আদায়ের অভিযোগে ২০২৪ সালের মে মাসে প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকারের এমপিও স্থগিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। বর্তমানে তার এমপিও স্থগিত থাকলেও নতুন করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

হাটের ইজারাদার ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবেদ আলী সরদার বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই মাঠে অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে কয়েকটি হাট এখানে বসবে। তিনি স্বীকার করেন, আইনের দৃষ্টিতে বিষয়টি সঠিক না হলেও বহু বছর ধরেই এভাবে হাট বসে আসছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার বলেন, ঈদ উপলক্ষে মাঠে হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.টি.এম আরিফ বলেন, স্কুল মাঠে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের মতামত চাওয়া হয়েছে। তবে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ইজারাদার স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে হাট বসিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।