ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কর্মস্থলে ফিরতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৬:৩৯ এএম

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মস্থলে ফেরার যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে এই ফেরার পথেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিতেই পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিবালয় উপজেলার উথলি সংযোগ মোড়, পাটুরিয়া ঘাট ও আরিচা ঘাট এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীবাহী বাসগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে চললেও ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করেন। ক্যামেরার সামনে কথা বলতেও তারা অনীহা প্রকাশ করেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং এ বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তারা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুভযাত্রা ও সেলফি পরিবহনে নবীনগরগামী যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে গাবতলীগামী যাত্রীদের কাছ থেকে ১৮০ টাকার পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা। অন্যদিকে নীলাচল পরিবহনে চিটাগাং রোড রুটের নির্ধারিত ২৫০ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে আদায় করা হচ্ছে ৩০০ টাকা।

পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবহন নেতাদের জন্য অতিরিক্ত ‘জিপি’ দেওয়ার বিষয়টিও তারা স্বীকার করেন। তাদের দাবি, সেলফি পরিবহনের প্রতি ট্রিপ থেকে ৪০০ টাকা এবং নীলাচল পরিবহনের প্রতি ট্রিপ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা করে জিপি আদায় করা হচ্ছে। তবে সেলফি পরিবহনের লাইনম্যান সুলতান অতিরিক্ত ভাড়া ও জিপি আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই বাড়তি টাকা দিয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাবনা থেকে আশুলিয়াগামী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, নবীনগরে নামবেন, কিন্তু ১০০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। ঈদ এলেই বেশি ভাড়া দিতে হয়।

রাজধানীর গাবতলীগামী মো. মাসুম রেজা বলেন, সাধারণ সময়ে গাবতলীর ভাড়া ১৮০ টাকা দিলেও এখন ২৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

রোজিনা আক্তার নামে এক যাত্রী বলেন, চিটাগাং রোডে যেতে নীলাচল বাসে ৩০০ টাকা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে, অথচ নির্ধারিত ভাড়া ২৫০ টাকা। বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, তাদের মূল দায়িত্ব যানজট নিয়ন্ত্রণ করা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কোনো যাত্রী অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাইওয়ে থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মোবাইল টিম কাজ করছে। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।