ঢাকা রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬

বাড়ছে চুরির আতঙ্ক

কুষ্টিয়ায় অকার্যকর সড়কবাতি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৬:৪৪ এএম

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামীণ জনপদের বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও নিরাপদ রাত্রিকালীন চলাচল নিশ্চিত করতে বসানো সৌরচালিত (সোলার) সড়কবাতিগুলো এখন চরম অযতœ ও অবহেলায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে, ফলে বাড়ছে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে উপজেলার জিয়ারখীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক ও মোড়ে সরকারি অর্থায়নে এসব সৌরবাতি স্থাপন করা হয়। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে অধিকাংশ বাতিই বিকল।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গত পাঁচ মাস ধরে বাতিগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে তারা স্থানীয় ইউপি সদস্যের (মেম্বার) সঙ্গে কথা বলতে বলেন। কিন্তু মেম্বারকে জানিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার মেলেনি। আলো না থাকায় রাতে যাতায়াতে চুরি-ছিনতাইসহ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নারী ও পথচারীরা। দ্রুত সরকারি সম্পদগুলো মেরামত করে সচল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জিয়ারখী এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, যখন সোলার লাইটগুলো লাগানো হয়েছিল, তখন আমাদের চলাফেরায় খুব সুবিধা হয়েছিল। বিশেষ করে নারীরা রাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারতেন। কিন্তু গত পাঁচ মাস ধরে বাতিগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় পুরো এলাকা ভূতুড়ে অন্ধকারে ডুবে থাকে। এখন সন্ধ্যার পর বাজারে বা রাস্তায় বের হতেই ভয় লাগে, যেকোনো সময় ছিনতাইয়ের আশঙ্কা থাকে। আমরা মেম্বার-চেয়ারম্যানকে বারবার জানিয়েও কোনো ফল পাইনি। আমরা দ্রুত এই বাতিগুলো সচল করার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রকৌশলী রোসান আহমেদ জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের পর নিয়ম অনুযায়ী এক বছর পর্যন্ত এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল ঠিকাদারের। সেই মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। তবে কোন কোন এলাকার বাতি নষ্ট, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।