জীবিকার সন্ধানে ভারতে গিয়ে দীর্ঘ ১৭ মাস বন্দিদশায় থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ২৮ জন শ্রমিক। উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের কহুলী ও আশপাশের গ্রামের এসব শ্রমিক বর্তমানে নিজ নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বজনদের কাছে ফিরে আসায় তাদের পরিবারেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ভারতে আটকাপড়া এসব শ্রমিককে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন। সম্প্রতি শ্রমিকরা ভারতের তামিলনাড়ু থেকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফেরেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে শ্রমিকদের সঙ্গে তোলা কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেন তিনি।
জানা গেছে, উন্নত আয়ের আশায় কয়েক বছর আগে কথিত দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন নন্দীগ্রামের এসব শ্রমিক। সেখানে তামিলনাড়ু অঞ্চলে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকলেও একপর্যায়ে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা হলে দীর্ঘ ১৪ মাস কারাগারে থাকতে হয়। কারামুক্ত হওয়ার পরও নিজ দেশে ফিরতে না পেরে আরও তিন মাস তামিলনাড়ুর একটি আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করেন তারা।
শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের নজরে আনলে তিনি তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। গত ৪ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব বরাবর পৃথক ডিও লেটার পাঠিয়ে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার অনুরোধ জানান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, নন্দীগ্রামের ২৮ জন শ্রমিক জীবিকার তাগিদে ভারতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতায় আটকা পড়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। সম্প্রতি তারা নিরাপদে দেশে ফিরে নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছান।
এ বিষয়ে মোশারফ হোসেন বলেন, ‘মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু উন্নয়ন কর্মকা-ে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের পরিবারের কাছে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তাদের স্বজনদের দেশে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আলহামদুলিল্লাহ, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।’

