ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

রংপুরে ১০ দিনের ব্যবধানে পানিতে ডুবে ১২ জনের মৃত্যু

রংপুর ব্যুরো
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৬:২১ এএম

রংপুরে গত ১০ দিনের ব্যবধানে পুকুর, নদী ও জলাশয়ের পানিতে ডুবে ৮ শিশু, ৩ কিশোর এবং একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জেলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পৃথক পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে পীরগাছা উপজেলায়।

পীরগাছা উপজেলায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার কল্যাণী ইউনিয়নের চওড়া মাসুয়াপাড়ায় পাঁচ বছরের এক শিশু পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়। এর আগের দিন শুক্রবার উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের নজর মাহমুদ এলাকায় পানিতে ডুবে সজিব মিয়ার ছেলে রাজীব মিয়া (৬) এবং শাহজাহান মিয়ার মেয়ে সেনাতুল আক্তার (৪) মারা যায়। তারা সম্পর্কে চাচাতো ও জ্যাঠাতো ভাইবোন। গত ৩ জুন বিকেলে উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের দিকটারী ও দাদন দোলাপাড়া এলাকায় পানিতে ডুবে সোহাগ (৪) ও আবিদ হাসান (৭) নামে দুই শিশু মারা যায়, যারা সম্পর্কে ফুপাতো ভাই। একই দিনে ১৪ মাস বয়সি শিশু ওয়াজেদ আলী বাড়ির পাশে জলাবদ্ধ জমিতে পড়ে প্রাণ হারায় বলে জানা গেছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের মাজারেরপাড় এলাকায় গত ২৭ মে পানিতে ডুবে রুশা মনি (১৫) ও তার ছোট ভাই সাইফ (৫) মারা যায়। তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ডাঙ্গীরহাট তেলিপাড়া গ্রামে যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নেমে অহিদ ইসলাম (১৫) ও মাসুদ রানা (১৬) পানিতে ডুবে মারা যায়। ঘটনা ঘটে ২৯ মে দুপুরে।

রংপুর মহানগরীর পানবাড়ি এলাকায় ঘাঘট নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিহাব (২৬) পানিতে ডুবে মারা যান।

প্রতি বছর বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে পানিতে ডুবে মৃত্যু উল্লেখযোগ্য। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের একা না রাখা, জলাশয়ের আশপাশে সতর্কতা বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের আরও সচেতন হলে এ ধরনের অনেক মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অসচেতনতার কারণেই পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’