ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

রমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া সিন্ডিকেট

রংপুর ব্যুরো
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৬:২২ এএম

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় একটি অ্যাম্বুলেন্সচালক চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রোগী ও তাদের স্বজনদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং নির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ব্যবহারে বাধ্য করে আসছিল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑ ওমেদ আলী, রানা মিয়া, রাজু মিয়া, বিপ্লব মিয়া, ফরহাদ হোসেন, আরাফাত হোসেন আপেল ও মারুফ হোসেন। শনিবার রাতে রমেক হাসপাতাল এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই চক্রটি জরুরি রোগী পরিবহনের সময় রোগীর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে গাড়ি ভাড়া করাত। অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প সেবা গ্রহণে নিরুৎসাহিত বা বাধ্য করা হতো। এতে সাধারণ মানুষকে বেশি ভাড়া দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিতে বাধ্য করা হতো। ফলে জরুরি মুহূর্তে রোগীর স্বজনরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘রমেক হাসপাতালের আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় ছিল, যারা রোগী ও স্বজনদের প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন করাত এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করত।’ তিনি আরও জানান, একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। পরে তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে শনিবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিসি সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘মানবিক সেবার মতো খাতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কেউ অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালি, চাঁদাবাজি ও ভাড়া-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’