ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদ নিয়ে রণক্ষেত্র

লাইফ জ্যাকেট-হেলমেট পরে টেঁটাযুদ্ধ, আহত ২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৬:২৫ এএম

আধিপত্য বিস্তার এবং একটি দোকানের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অংশ নেওয়া দাঙ্গাবাজদের মাথায় ছিল মোটরবাইকের হেলমেট এবং বুকে ছিল বিশেষ লাইফ জ্যাকেট। গতকাল রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলে।

টেররিস্ট বা বিশেষ বাহিনীর স্টাইলে প্রস্তুতি নিয়ে টেঁটা, বল্লম, রামদা ও ইট-পাটকেল নিয়ে চালানো এই সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, থলিয়ারা গ্রামের মিন্দার আলী (ছোট গোষ্ঠী) পক্ষের জুবায়েরের সঙ্গে বাদৈরবাড়ী (বড় গোষ্ঠী) পক্ষের জয়নাল মিয়ার একটি দোকানের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধপূর্ণ ওই দোকান ছোট গোষ্ঠীর শিরো মিয়া পরিচালনা করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। সর্বশেষ চার দিন আগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি বড় সালিশ বৈঠকে বিতর্কিত ওই দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সালিশের এই সিদ্ধান্ত একটি পক্ষ অমান্য করায় উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকালে দুই পক্ষের শত শত লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির জেরে শুরু হয় ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। নিজেদের সুরক্ষায় দাঙ্গাবাজেরা হেলমেট ও লাইফ জ্যাকেট পরে একে অপরের ওপর টেঁটা ও বল্লম নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বুলেট গতির যুদ্ধে পুরো থলিয়ারা গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং বাজারের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পুলিশের একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া বলেন, গ্রামে জারু মিয়ার চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েক দিন আগে এক সালিশে দোকান উচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও একটি পক্ষ তা মানেনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি চায়ের দোকান উচ্ছেদের মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছোট গোষ্ঠী ও বড় গোষ্ঠীর লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।