ঢাকা বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

দুই সপ্তাহে প্রাণ গেল ৫ জনের

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক নিহত

বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৬:১২ এএম

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে আব্দুল খালেক (৩০) নামে এক রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে সীমান্তবর্তী একটি বাগানে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে এই সীমান্ত এলাকায় বিস্ফোরণে পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটল। নিহত আব্দুল খালেক কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ব্লক-সির বাসিন্দা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল খালেক সকালে ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফাত্রাঝিরিপাড়ার বাসিন্দা শাহ আলমের গাছবাগানে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান। পাহাড়ের ঢালে কাজ করার একপর্যায়ে হঠাৎ মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাইন বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে বাগানে থাকা অন্য শ্রমিকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। মাইন বিস্ফোরণে তার দুই পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাঁ পায়ের পাতা শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে শ্রমিকেরা তাকে উদ্ধার করে উখিয়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মো. মোজাম্মেল হক জানান, বিস্ফোরণের ঘটনাটি সীমান্তের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) থেকে বাংলাদেশ ভূখ-ের প্রায় ৭০০ গজ অভ্যন্তরে ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও খামারিদের সীমান্ত এলাকায় সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড় ও জঙ্গলগুলোতে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিজিবির পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করার পরও জীবিকার তাগিদে বা অসচেতনতাবশত অনেকেই নিষিদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করছেন। ফলে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের মতো এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা বারবার ঘটছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৪ মে ঘুমধুমের পার্শ্ববর্তী ভালুকিয়াপাড়া এলাকায় বাগানে কাজ করতে গিয়ে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। এর মাত্র কয়েক দিন পর, গত ২ জুন বাইশফাঁড়িপাড়া এলাকায় পরিত্যক্ত মর্টারশেল কুড়িয়ে পেয়ে তা নিয়ে খেলার সময় বিস্ফোরণে এক আদিবাসী কিশোরের মৃত্যু হয়। একের পর এক এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।