ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক রাতে তিন কৃষকের গোয়ালঘরের তালা কেটে সাতটি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র। গত সোমবার রাতে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরহোসেনপুর পূর্বপাড়া গ্রাম এবং মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া এলাকায় এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক দাম প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় খামারি ও কৃষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরহোসেনপুর পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক সোমবার রাত ২টার দিকে গোয়ালঘরে গরুগুলো দেখে ঘুমাতে যান। পরে ভোর ৫টার দিকে উঠে দেখেন গোয়ালঘর সম্পূর্ণ ফাঁকা। চোরেরা ঘরের তালা কেটে তার তিনটি বকনা ও গাভি গরু নিয়ে গেছে। একই রাতে তার ভাই আব্দুল খালেকের গোয়াল থেকেও দুটি ষাঁড় ও একটি গাভিসহ তিনটি গরু চুরি হয়। অন্যদিকে, মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া গ্রামের কৃষক রিপন মিয়ারও প্রায় ১ লাখ টাকা দামের একটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চক্রটি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, ‘এই গরুগুলোই ছিল আমার শেষ সম্বল। ভেবেছিলাম বড় হলে এগুলো বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করব। চোরেরা আমাকে একেবারে রাস্তায় বসিয়ে দিয়ে গেল।’
অপর কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমার একটি গাভি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। ভেবেছিলাম বাচ্চা হওয়ার পর দুধ বিক্রি করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাব। চোরেরা আমার পরিবারের জীবিকাই কেড়ে নিল।’
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হাসান মিলন বলেন, গরুগুলোই ছিল পরিবারগুলোর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। এই চুরির পর গ্রামের অন্য খামারিরাও এখন আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছেন না। এলাকায় চুরি রোধে পুলিশের টহল ও কার্যকর ভূমিকা বাড়ানো দরকার।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মালেক বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওসি রবিউল আজম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গরু চুরির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। চুরি যাওয়া গরুগুলো উদ্ধার এবং চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন