পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় একটি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের কালীমন্দির গুঁড়িয়ে জমি দখল এবং অর্ধশতাধিক পরিবারের চলাচলের শতবর্ষী পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেত্রীর স্বামীর বিরুদ্ধে। উপজেলার ৬ নম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় সিংগা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর চৌধুরী স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা মাহিনুর চৌধুরীর স্বামী। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও তারা কোনো প্রতিকার পাননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড় সিংগা গ্রামের ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক জমাদ্দারের বাড়ির দক্ষিণ পাশে একটি স্কুল ছিল। ওই এলাকার প্রায় ৫০-৬০টি পরিবারের যাতায়াতের সুবিধার্থে স্কুলের পাশ থেকে মালেক জমাদ্দারের বসতঘরের সামনে দিয়ে প্রধান সড়ক পর্যন্ত একটি চলাচলের পথ ছিল। মালেক জমাদ্দারের চাচার অংশের জমি কেনার পর জাহাঙ্গীর চৌধুরী সীমানা নালা কেটে কৌশলে ওই পথসহ আশপাশের সম্পত্তি নিজের আয়ত্তে নেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাস্তাটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে জমির শ্রেণি এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে যে, সেখানে কোনো পথ ছিল তা বোঝার উপায় নেই। পথ বন্ধ হওয়ায় মালেক জমাদ্দারের পরিবার এখন ফসলের মাঠ ও অন্যের বাগান দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে একই এলাকার ভুক্তভোগী পুতুল রানী অভিযোগ করে বলেন, জাহাঙ্গীর চৌধুরী কৌশল করে আমাদের তিন কাঠা জমি দখল করে নিয়েছেন। সেখানে আমাদের একটি ঐতিহ্যবাহী কালীমন্দির ছিল। ক্ষমতার দাপটে সেই মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের জমি ফেরত চাই এবং পুনরায় মন্দির নির্মাণ করে পূজা-অর্চনা করতে চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর চৌধুরী পথ অবরুদ্ধ করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সেখানে আগে কোনো পথ ছিল না। মন্দির ও জমি দখলের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় তাকে ওই জমি স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে ‘নিদাবি’ বা স্বেচ্ছায় দান করে গেছেন।
এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সহকারী সুপার পার্থ চক্রবর্তী জানান, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর চৌধুরীও উল্টো একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আমরা উভয় পক্ষকে ডেকেছি। দুই পক্ষকে নিয়ে বসে দ্রুত বিষয়টি ফয়সালার চেষ্টা চলছে।

