পঞ্চগড়ের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘আদর্শ ক্লিনিক’-এ মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এক প্রসূতি মা ও দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে স্বাস্থ্য বিভাগ ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটার ও লেবার রুম সিলগালা করে দিয়েছে।
জানা যায়, গত রোববার রাতে ওই ক্লিনিকে মিতু আক্তার নামে এক প্রসূতি মায়ের প্রসবের সময় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এর রেশ না কাটতেই বুধবার সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের নূরনবীর স্ত্রী পাপড়ি আক্তারের নরমাল ডেলিভারির সময় প্রথমে নবজাতক এবং পরে প্রসূতি মা পাপড়ি আক্তারের মৃত্যু হয়। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ নড়েচড়ে বসে। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান ক্লিনিকটিতে আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও লেবার রুম সিলগালা করে দেওয়া হয়। সিভিল সার্জন জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ওই ক্লিনিকে সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত এই ক্লিনিকের কোনো হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ছিল। বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগ এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় নিহত প্রসূতি ও নবজাতকদের স্বজনেরা চিকিৎসকদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। পঞ্চগড়বাসীর দাবি, লাইসেন্সহীন ও মানহীন ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন শোক সইতে না হয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন