ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

প্রেমের ডানায় উড়ে এসে ফিরলেন শূন্য হাতে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৬:১৩ এএম

প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় ছুটে এসেছিলেন এক চীনা নাগরিক। উদ্দেশ্য ছিল প্রিয় মানুষটিকে বিয়ে করে দেশে ফেরা। তবে প্রেমিকার বয়স অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই ফিরতে হয়েছে তাকে। যাওয়ার আগে তিনি জানিয়েছেন, প্রিয়তমার জন্য তিনি দেড় বছর অপেক্ষা করবেন।

চীনা ওই নাগরিকের নাম এম এ হাইশান (৩৯)। গত বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড় সাঁওতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক জানান, অনলাইনে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরীর সঙ্গে চীনা যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্রে বুধবার ঢাকায় পৌঁছালে মেয়ে ও তার স্বজনরা তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেয়েটির বয়স বিয়ের উপযোগী হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় চীনা যুবককে বুঝিয়ে মেয়ের স্বজনদের সঙ্গে ঢাকায় পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কুমারখালীর বিথি (ছদ্মনাম) নামের ওই কিশোরীর সঙ্গে হাইশানের পরিচয় হয়। কথাবার্তার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা পরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। সেই সম্পর্ককে পরিণয়ে রূপ দিতে বুধবার সকালে চীনের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান হাইশান। সেখান থেকে মেয়ে ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে কুমারখালীর বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বৃহস্পতিবার তিনি দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে কুমারখালী ত্যাগ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেয়েটির মা বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে ওই ছেলের পরিচয়ের বিষয়টি সে আমাকে জানিয়েছিল। পরে ছেলেটি বাংলাদেশে আসে। কিন্তু মেয়ের বয়স কম হওয়ায় আমরা বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

চীনা নাগরিক এম এ হাইশান মোবাইল অ্যাপের অনুবাদের মাধ্যমে জানান, বন্ধুত্ব থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি বিয়ের উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে বিয়ে সম্ভব হয়নি। তবে তিনি তার প্রিয়তমার জন্য দেড় বছর অপেক্ষা করবেন।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে ছিল। পরিবার মেয়েটির বয়স বিবেচনায় নিয়ে বিয়ের পক্ষে সম্মতি দেয়নি। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বিয়ের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রশাসন সবসময় বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছিল।