ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

জনবল সংকটে রুগ্ন স্বাস্থ্যসেবা

বজলুর রহমান, শিবচর (মাদারীপুর)
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৪:০২ এএম

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ১০০ শয্যার আধুনিক ভবন থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় হাসপাতালটি কার্যত অর্ধেকেরও কম সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীর চাপ থাকলেও চিকিৎসকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে আইসিইউ ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। গাইনি ওয়ার্ডেও কার্যকর সেবা না থাকায় অনেক রোগীকে জেলা সদর হাসপাতাল বা ঢাকায় রেফার করা হচ্ছে।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, টয়লেট ও গোসলখানা ঘুরে দেখা যায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভাবে অনেক স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, এতে রোগী ও স্বজনদের চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের সার্বিক স্বাস্থ্যকর পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে, পাঁচতলা ভবনের দুইটি লিফট দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। ভর্তি রোগীদের ৪র্থ ও ৫ম তলায় নিতে স্বজনদের কাঁধে করে বা ভ্যানের মাধ্যমে বহন করতে হচ্ছে। ট্রলিম্যান না থাকায় মুমূর্ষু রোগী স্থানান্তরেও দেখা দিচ্ছে চরম সংকট।

চিকিৎসা নিতে আসা শাহাবুদ্দিন মাদবর বলেন, ‘এত বড় হাসপাতাল হলেও এখানে পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই। টয়লেটের অবস্থা খুবই খারাপ। রোগীদের খাবারের মানও সন্তোষজনক নয়। আধুনিক ভবন হলেও সেবার মান অনেক কম।’

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর তদারকি নেই। বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও জরুরি চিকিৎসাসেবায় আরও নজরদারি প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত জনবলের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ১০ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭ জন। ৪১ জন সহকারী সার্জন ও মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে আছেন ২৬ জন। নার্স ও মিডওয়াইফের ৩৭টি পদের মধ্যে ৩০ জন কর্মরত থাকলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ৮টি পদের মধ্যে আছেন মাত্র ৩ জন। স্যাকমো পদে ২০ জনের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন। এ ছাড়া ফার্মাসিস্ট, ওয়ার্ড বয়, আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মীসহ চতুর্থ শ্রেণির অনেক পদই শূন্য রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমিত জনবল নিয়েও আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কাক্সিক্ষত সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাতেমা মেহজাবিন বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে কাক্সিক্ষত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ১০০ শয্যার নতুন ভবন চালু হলেও সে অনুযায়ী জনবল বৃদ্ধি হয়নি। শূন্যপদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।’ স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত জনবল নিয়োগ, বিকল লিফট মেরামত, আইসিইউ ও গাইনি ওয়ার্ড চালু এবং পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উপজেলার লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।