ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

কৃষি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৪:০৩ এএম

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় তিন ফসলি উর্বর কৃষিজমিতে অবাধে পুকুর খননের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। মাছ চাষে অধিক লাভের আশায় কৃষিজমি কেটে পুকুর তৈরির কারণে প্রতি বছর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় সব এলাকায়ই পুকুর খননের প্রবণতা দেখা গেলেও জিউপাড়া, ভালুকগাছি ও শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে এর মাত্রা সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় বিল ও ফসলি জমিগুলোতে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন চলছে নিয়মিতভাবে। এক সময় এসব জমিতে ধান, পাট, আখ, আলু, বেগুন, রসুন ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব ফসল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই উর্বর তিন ফসলি জমিও পুকুরে রূপান্তরিত হওয়ায় কৃষি উৎপাদন হ্রাসের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পুকুর খনন কার্যক্রম চলছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তারা।

শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মমিনুল হক বলেন, ‘সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খনন থেমে নেই। অনেক জায়গায় আমবাগান কেটে পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। এসব পুকুরের মাটি ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। আবার অনেকে প্রতি ট্রাক মাটি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে কিনছে।’ তিনি আরও বলেন, পুকুর খননের কারণে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে তাদের জমি পুকুর খননের জন্য ছেড়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পুকুর খননে ব্যবহৃত ট্রাক্টর ও ভারী যানবাহনের কারণে গ্রামীণ সড়ক ও মহাসড়কও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকরা এসব যানবাহন চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, এভাবে তিন ফসলি জমি কমতে থাকলে ভবিষ্যতে ধানসহ প্রধান ফসলের উৎপাদন ভয়াবহভাবে কমে যেতে পারে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী বলেন, ‘কৃষিজমির পরিমাণ কমছে, তবে কতটুকু কমেছে সে বিষয়ে আমাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই।’

এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, ‘পুকুর খননের খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে এবং কিছু এক্সকাভেটর জব্দ ও অকেজো করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে পুকুর খননে উৎসাহিত করছে। বিষয়টি কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’ স্থানীয় কৃষক, পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা না নিলে পুঠিয়ার কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং খাদ্য উৎপাদনে বড় সংকট তৈরি হতে পারে।