× UCB Sticker Card
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সাদ্দাম হোসেন, শ্রীপুর (গাজীপুর)

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ১২:০৯ এএম

দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ

সেতু দেবে গিয়ে বন্ধ যোগাযোগ

সাদ্দাম হোসেন, শ্রীপুর (গাজীপুর)

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ১২:০৯ এএম

সেতু দেবে গিয়ে  বন্ধ যোগাযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রামে সেরার খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৩৮ বছরের পুরোনো একটি সেতুর নিচের অংশ দেবে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুটি দিয়ে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে পটকা, বাউনি ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পটকা থেকে বাউনি বাজারগামী বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির প্রধান সড়কের ওপর অবস্থিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। গত ১৬ জুন সেতুর নিচের একটি বড় অংশ দেবে যায়। একই সঙ্গে সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিলে স্থানীয়রা নিরাপত্তার স্বার্থে চলাচল বন্ধ করে দেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর নিচের অংশে বড় ধরনের ধস নেমেছে। কয়েকটি স্থানে কংক্রিট ভেঙে গেছে এবং ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেতুর দুই পাশে বাঁশ ও সতর্কতামূলক চিহ্ন দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কাজে মানুষকে বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে।

পটকা গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, ‘সেতুটি অনেক দিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন নিচের অংশ দেবে যাওয়ায় নিরাপদে পারাপার করা সম্ভব নয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা সাজেদুল করিম বলেন, ‘এটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। সেতু বন্ধ থাকায় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বেড়েছে।’ স্কুলশিক্ষার্থী কবির হোসেন জানায়, আগে প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে স্কুলে যেত। এখন বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, এতে সময় বেশি লাগছে।

অটোরিকশাচালক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘সেতু দিয়ে প্রতিদিন যাত্রী পরিবহন করতাম। এখন যান চলাচল বন্ধ থাকায় আয় কমে গেছে। যাত্রীদেরও অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।’ পিকআপচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচ ও সময় দুটোই বেড়েছে।’

গোসিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরুক আহমেদ বলেন, ‘সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বর্তমানে নিচের অংশ দেবে যাওয়ায় ও ফাটল দেখা দেওয়ায় চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়কে জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির বেহাল অবস্থার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, ‘সেতুর নিচের অংশ দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্ভোগ কমাতে অস্থায়ী বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি অপসারণ করে সেখানে নতুন ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!