ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

১৪ মামলার আসামি ‘চশমা সাঈদের’ মরদেহ উদ্ধার

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৬:১২ এএম

যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের রঘুরামপুরে আবু সাঈদ ওরফে ‘চশমা সাঈদ’ (৩২) নামের এক যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। নিহত আবু সাঈদ রঘুরামপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার নওয়াব আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায, বুধবার সকালে রঘুরামপুরের কামরুজ্জামান ওরফে কাম গাজীর পুকুরের উত্তর পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেন। সকাল ১০টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হত্যাকা-ে ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র জব্দ করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত সাঈদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র বহন ও হত্যাচেষ্টাসহ থানায় মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। এলাকায় ‘চশমা সাঈদ’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয়রা জানান, সাঈদ এলাকায় দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত ছিল। এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। নিহতের পরিবারের দাবি, ধর্মতলা এলাকার শক্তি নামের এক ব্যক্তি সাঈদকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল এবং প্রায়ই ধারালো দা নিয়ে তাকে খুঁজত। তারা এই হত্যাকা-ের সঙ্গে শক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাসুম খান জানান, মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত সাঈদ এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে। হত্যাকা-ে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে এ ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার তদন্তে হত্যাকা-ের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।