সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বাকি মির্জা হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১৪ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করেন।
দ-প্রাপ্তরা হলেনÑসিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার জানপুর মহল্লার বাসিন্দা জাকারিয়া মাসুদ (৪৩) এবং সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের খাগা গ্রামের আনোয়ার হোসেন কিরণ (৪৫)। আদালত তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন, যা অনাদায়ী আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদ- ভোগ করতে হবে।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামসুজ্জোহা শাহানশাহ জানান, রায় ঘোষণার সময় দ-প্রাপ্ত আসামি আনোয়ার হোসেন কিরণ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে জাকারিয়া মাসুদ পলাতক রয়েছেন। তিনি আরও জানান, মামলার অপর আসামি ডা. আবদুল লতিফের বিচারকাজ হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন থাকায় আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। আবেদন নিষ্পত্তির পর তার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল রাতে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট চত্বরের সরকারি ব্যাচেলর কোয়ার্টারে ডা. বাকি মির্জাকে হাত-পা বেঁধে গলা কেটে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকা-ের পর চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তদন্তে হত্যাকা-ের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টি উঠে আসে। এ ছাড়া মামলার আরেক আসামি রুহুল আমীন বাবু বিচার চলাকালীন মৃত্যুবরণ করায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ১৪ বছর পর এই রায়ে ন্যায়বিচারের আশা দেখছেন নিহতের পরিবার ও সচেতন মহল। তবে মামলার এক আসামির পলাতক থাকা এবং অপরজনের রিভিশন আবেদনের কারণে বিচারিক প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

