পেট ভরে দুই মুঠো ভাত খাওয়ার লড়াই করতে গিয়ে চাঁদাবাজদের কাছে সর্বস্ব হারাচ্ছেন চট্টগ্রামের জেলেরা। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে নগরের রানী রাসমনি জেলে ইলিশ ঘাট সড়কে মাছ, বরফ ও গ্যাস সিলিন্ডার ফেলে অভিনব প্রতিবাদ জানান তারা। ‘অবৈধ খাস কালেকশন’-এর নামে চলা এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসে বিচার চাইলেন শতাধিক ভুক্তভোগী। এ সময় শত শত জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রাজপথে অবস্থান নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জেলেরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ঘাটে নৌকা ভেড়ানো, মাছ খালাস, জাল-রশি আনা-নেওয়া এবং বরফ ও গ্যাস সিলিন্ডারের মতো জরুরি সরঞ্জামের ওপর অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ‘খাস কালেকশন’-এর নামে এসব চাঁদাবাজির কারণে তাদের দৈনন্দিন ব্যবসা চালানো দুরূহ হয়ে পড়েছে। অনেক জেলের প্রতিদিনের আয়ের বড় অংশই এই অবৈধ তহবিলে চলে যাওয়ায় তারা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, মৎস্য খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাটটিতে কাজ করতে এসে তারা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শুধু জেলেরা নন, ঘাটের শ্রমিক, নৌকার মাঝি ও ছোট মাছ ব্যবসায়ীরাও এই অবৈধ অর্থ আদায়ের চক্র থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তারা আজ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রানী রাসমনি জেলে ইলিশ ঘাটের সভাপতি মো. হাসান আলী চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ উদ্দিন। নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে চাই। কিন্তু চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। অবিলম্বে এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে ঘাটের শতাধিক সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে ঘাটে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা হলে এবং চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। এ ছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি-দাওয়া সংবলিত স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

