চোয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বোমা (ককটেল) বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং ট্রাক্টর দিয়ে ফসলি জমি চষে সনাতন ধর্মের এক পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে একদল বহিরাগত যুবক। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় গ্রামবাসীর তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ও সাহসিকতায় জমি দখল করতে আসা চক্রের ১৩ সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ৫টি মোটরসাইকেল ও একটি ট্রাক্টরযোগে একদল বহিরাগত যুবক বাঁশবাড়িয়া গ্রামে শ্মশানঘাটসংলগ্ন সনাতন ধর্মের একটি পরিবারের জমিতে প্রবেশ করে। তারা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর ট্রাক্টর দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রায় দুই বিঘা জমির কাঁচা মরিচখেত চষে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের আর্তচিৎকার শুনে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে ওই চক্রটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না পেয়ে ১৩ জন আটক হয়। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় হামলাকারীদের ব্যবহৃত ৫টি মোটরসাইকেল ও ট্রাক্টরটি জব্দ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করলেও গ্রামবাসীদের এই সাহসী ভূমিকা ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাঈল জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। জমি দখল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

