সামাজিক কুসংস্কার ও যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল লালমনিরহাট। সামাজিক অপরাধমুক্ত ও আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ সংগঠনের উদ্যোগে গত শুক্রবার রাতে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাত জোড়া তরুণ-তরুণীর জমকালো যৌতুকবিহীন গণবিয়ের আয়োজন করা হয়।
বর্ণিল আলোকসজ্জা ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। মঞ্চে একই রঙের শেরওয়ানি পরা সাত বর ও লাল শাড়িতে সজ্জিত সাত কনের উপস্থিতি মিলনায়তনে এক নান্দনিক আবহ তৈরি করে। ৬টি মুসলিম ও একটি হিন্দু পরিবার কোনো প্রকার দেনা-পাওনা (যৌতুক) ছাড়াই এই পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হন। গত ঈদুল আজহার সময় ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে নেওয়া যৌতুকমুক্ত বিয়ের ঘোষণাটি শুক্রবার রাতে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হলো।
যৌতুক প্রথার অভিশাপমুক্ত হয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পেরে উচ্ছ্বসিত নবদম্পতিরা। তারা যুবসমাজের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, ‘বিয়ে হওয়া উচিত যৌতুকমুক্ত ও অহংকারহীন।’ অভিভাবকরাও এই উদ্যোগকে নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় আশীর্বাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেনÑ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক। বক্তারা বলেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর এই উদ্যোগ কেবল একটি জেলার জন্য নয়, বরং সারা দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে এই মহতী উদ্যোগ তরুণ সমাজকে নতুন পথের দিশা দেখাবে।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অডিটরিয়ামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। নবদম্পতিদের শুভকামনা জানাতে ও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে ভিড় জমান হাজারো মানুষ। সমাজ সংস্কারের এমন ব্যতিক্রমী ও সাহসী উদ্যোগ লালমনিরহাটসহ সারা দেশে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এমন আয়োজনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সমাজ থেকে যৌতুকের মতো বিষবৃক্ষ সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব হবে।

