উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও থামছে না নদী ভাঙন। কুড়িগ্রামের নাগেশ^রীতে দুধকুমার নদের অব্যাহত ভাঙনে গত দুই-তিন দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সব কিছু হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।
জানা গেছে, বন্যার পরবর্তী এই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে উপজেলার কেদারের মন্ডলপাড়া, কচাকাটার ধনিরামপুর, মধ্য ধনিরামপুর, বল্লভেরখাসের মাঝিপাড়া, রামদত্ত মাঝিপাড়া, ইসলামপুর, রায়গঞ্জের হাজীর মোড় বাজার এলাকা, বেরুবাড়ীর খেলারভিটা, খামার নকুলা, বামনডাঙ্গার মুড়িয়াহাট, তেলিয়ানীর কুটি ও মালিওয়ানীসহ বিস্তীর্ণ এলাকায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েকদিনে রায়গঞ্জ রতনপুর হাজীপাড়া-সংলগ্ন আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের কুটিপাড়া ও কমলারকুটি গ্রামে ভাঙনের দৃশ্যপট ভয়াবহ। চোখের সামনেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বাগান।
ওই এলাকার আব্দুল মোত্তালেব, আব্দুল খালেক, আমজাদ হোসেন, আশরাফ আলী, শহীদ মিয়া, কয়েদভান ও আমিনা বেগমসহ ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ভাঙন এতই তীব্র যে ঘরবাড়ি সরানোরও সময় পাচ্ছেন না তারা। মুহূর্তেই সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে হচ্ছে তাদের।
ভুক্তভোগী আমজাদ হোসেন ও আশরাফ আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘বন্যা কোনোমতে সহ্য করেছি, কিন্তু এখন নদী আমাদের সব কেড়ে নিচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।’
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দ্রুত কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল তাদের এই চরম ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রনি জানান, বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয়দের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনের বিষয়টি আমি অবগত আছি। দ্রুত এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

