ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাঁধাইড় ইউনিয়নের বহরইল বরেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট (সনদ) প্রদানের নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাকা ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয় না বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত বৃহস্পতিবার হুমায়ন নামে এক অভিভাবক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে বহরইল বরেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন হুমায়নের ছেলে সাহারিয়ার হোসেন শিশির। সার্টিফিকেট তুলতে গেলে প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান ৮০০ টাকা দাবি করেন। টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সাফ জানিয়ে দেন, টাকা না দিলে সার্টিফিকেট পাওয়া সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েই সনদ গ্রহণ করতে হয় শিক্ষার্থীকে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, শুধু শিশির নয়, দীর্ঘদিন ধরেই এই স্কুলে সার্টিফিকেট বাণিজ্য চলছে। এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এমনকি জেএসসি বা অষ্টম শ্রেণির সার্টিফিকেট নিতে গেলেও সমপরিমাণ টাকা দিতে হয় প্রধান শিক্ষককে। ২০০ বা ৪০০ টাকা নিয়ে গেলে তিনি তা নিতে অস্বীকৃতি জানান।

স্থানীয় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বহরইল অঞ্চলটি কৃষিপ্রধান ও দরিদ্র এলাকা। অভাবী সংসারের শিক্ষার্থীরা কোনোমতে পড়াশোনা শেষ করলেও সার্টিফিকেট আনতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। অনেককে এই টাকা জোগাতে ধান বিক্রি পর্যন্ত করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত অমানবিক। তারা আরও জানান, বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা এই টাকা আদায়ের বিষয়ে কিছুই জানেন না; প্রধান শিক্ষক নিজের খেয়ালখুশিমতো এই অর্থ আদায় করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য সার্টিফিকেট প্রতি ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়। প্রায় সব স্কুলেই এমনটা করা হয়। তবে ১০০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ এবং উন্নয়নের সেই টাকা কোথায় খরচ হয়েছেÑ এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে তিনি ‘পরে কথা হবে’ বলে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার সায়মা আঞ্জুমান বলেন, একজন অভিভাবক আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আগামী সপ্তাহে প্রধান শিক্ষককে ডাকা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সার্টিফিকেট প্রদানের নামে টাকা নেওয়ার কোনো সরকারি নিয়ম নেই। প্রধান শিক্ষক আমাকে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি না দেওয়ায় তারা সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় ৩০০ টাকা করে নিচ্ছেন। তবে টাকা নেওয়ার কোনো বৈধতা নেই, তা আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি।