শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর ও শারীরিক লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়া এ ঘটনায় সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সখীপুর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে দেরিতে আসা ও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগসহ নানা অনিয়ম করে আসছিলেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক একাধিকবার জানালেও তিনি কর্ণপাত করেননি।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রধান শিক্ষক জানান, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে দেলোয়ার হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করেন। ওই দিন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পরিদর্শনের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ও একটি জরুরি সভা থাকায় প্রধান শিক্ষক ছুটি মঞ্জুর করতে অপারগতা জানান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিত-া শুরু হয়। একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন তাকে শারীরিকভাবে আঘাত ও লাঞ্ছিত করেন।
বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। প্রধান শিক্ষকের দাবি, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজেও এর প্রমাণ রয়েছে। ঘটনার পর তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে শিক্ষকদের এমন কর্মকা-ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষকদের এমন আচরণ শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনার সুরাহা ও দোষীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহীন আহমেদ ও সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছুটির বিষয়টি কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টির একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিনের মতবিরোধের কারণেই এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা। অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার সন্তান অসুস্থ থাকায় ছুটি চেয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে আমার প্রতি অন্যায় আচরণ করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। বিষয়টির সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে সখীপুর থানার ওসি মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ‘অভিযোগটি গ্রহণ করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

