ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

শজিমেক হাসপাতালে জালিয়াতি

ফরওয়ার্ডিং চিঠি বদলে প্রধান সহকারী পদে নিয়োগ!

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৭:১২ এএম

বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে প্রধান সহকারী পদে পদায়নকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের পরিচালকের দাপ্তরিক ফরওয়ার্ডিং চিঠি ব্যবহার করে কৌশলে আবেদনপত্র পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিভ্রান্ত করে এই নিয়োগ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উচ্চমান সহকারী শাহীন ইসলামের বিরুদ্ধে। তবে জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও দীর্ঘ সময় পার হলেও তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি চূড়ান্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উচ্চমান সহকারী শাহীন ইসলাম শুরুতে বগুড়া জেলার যেকোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রধান সহকারী পদে পদায়নের আবেদন করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে মহাপরিচালক বরাবর প্রেরণের জন্য পরিচালকের স্বাক্ষরযুক্ত একটি ফরওয়ার্ডিং চিঠি ইস্যু করে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ডিসপ্যাচ শাখার মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পৌঁছানোর পথে জালিয়াতি চক্রটি মূল আবেদনপত্রটি সরিয়ে ফেলে। তার জায়গায় একই প্রতিষ্ঠানের (শজিমেক হাসপাতাল) প্রধান সহকারী পদে পদায়ন চেয়ে নতুন একটি আবেদন সংযুক্ত করা হয়। সঙ্গে যোগ করা হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সুপারিশপত্র। এই জালিয়াতির মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ভুল বুঝিয়ে পদায়নের আদেশ হাতিয়ে নেওয়া হয়।

এই ঘটনায় হাসপাতালের দীর্ঘদিনের দায়িত্বপালনকারী প্রধান সহকারী এস. এম. কামরুজ্জামান চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় মামলা, শাস্তি বা অসদাচরণের রেকর্ড নেই। অথচ কোনো নিয়ম না মেনে তাকে সরিয়ে একই প্রতিষ্ঠানে অন্যকে পদায়নের উদ্যোগ প্রশাসনিক বিধিবিধানের চরম লঙ্ঘন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শাহীন ইসলাম প্রতারণার মাধ্যমে এই পদায়নের আদেশ আদায় করেছেন। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে হাসপাতালের পরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর তিনটি পৃথক পত্র পাঠিয়েছেন। এতে অনতিবিলম্বে পদায়নের আদেশ বাতিল, বর্তমান প্রধান সহকারীকে স্বপদে বহাল রাখা এবং অভিযুক্ত শাহীন ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহীন ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তদন্ত কমিটির কাছে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ও শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে অবিলম্বে বদলি আদেশ বাতিল ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মনজুর-এ মোরশেদ জানান, শাহীন ইসলামের বিরুদ্ধে জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’