ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

দুর্ভোগে ৮ গ্রামের মানুষ

সংস্কারহীন ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৭:১৩ এএম

দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদাহা ইউনিয়নের কয়রাবিল ব্রিজটি ভেঙে পড়ে রয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ আর তীব্র আতঙ্কের মধ্য দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা। ব্রিজটির এমন বেহাল দশায় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, তবুও যেন দেখার কেউ নেই।

সরেজমিন দেখা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সঙ্গে সীমান্তবর্তী সাতানি, বাঁশদাহা ও কাথন্ডাসহ অন্তত সাত-আটটি গ্রামের মানুষের কলারোয়া উপজেলায় যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এই ব্রিজ। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর চলাচলের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাবাসী বাঁশ, কাঠ, ইটের রাবিশ ও মাটি ভরা বস্তা দিয়ে কোনোমতে একটি নড়বড়ে অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে সেই ব্যবস্থাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামান্য অসাবধানতা কিংবা ভারী যানবাহনের চাপে এটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে দীর্ঘ এক বছরেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও কর্মজীবী মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ইজিবাইক চলাচলের সময় প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের ভাঙা অংশে দুর্ঘটনা ঘটছে। ফসল বাজারজাতকরণ ও জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া নিয়ে তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে বড় কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেন।

এদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি সংস্কার বা নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। তাদের আশা, প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে এলাকাবাসীর চলাচলের স্বাভাবিক পথ সুগম করবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, পুরোনো এই ব্রিজটি এলজিইডির নির্মাণ করা নয়। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। সেখানে একটি নতুন ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।