দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারের অভাবে নীলফামারীর সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের চরম অবহেলায় টার্মিনাল ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ার পথে, আর টার্মিনাল চত্বর পরিণত হয়েছে বড় বড় খানাখন্দে। ফলে বাধ্য হয়ে মহাসড়কের পাশেই ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে হচ্ছে, যা নিত্যদিনের দুর্ঘটনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই টার্মিনালটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরবর্তীতে ২০০০ সাল থেকে এর পরিচালনার দায়িত্ব নেয় সৈয়দপুর পৌরসভা। বর্তমানে টার্মিনাল থেকে সৈয়দপুর হয়ে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, জলঢাকা, ডোমার, চিলাহাটি, পার্বতীপুর ও ফুলবাড়িসহ বিভিন্ন রুটে শতাধিক বাস ও মিনিবাস চলাচল করে। পাশাপাশি ঢাকা, বগুড়া, যশোর ও চট্টগ্রামগামী একাধিক দূরপাল্লার কোচও এখান থেকে ছেড়ে যায়। এত ব্যস্ত একটি টার্মিনাল হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় পুরো চত্বরটি এখন যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালটির মূল ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। যাত্রী বসার স্থানগুলো এখন ব্যবহারের একেবারেই অনুপযোগী। টার্মিনাল চত্বরে বাস রাখার জায়গায় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে থাকে, ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বৃষ্টির সময় টার্মিনালের ভেতরে কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০০০ সালের পর থেকে প্রতি বছর পৌরসভার বাজেটে টার্মিনাল সংস্কারের জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজই হয় না। কেন এই বরাদ্দ ব্যয় করা হচ্ছে না, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
সৈয়দপুর থানার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মাহফুজ আলম বলেন, টার্মিনাল অকেজো হয়ে পড়ায় চালকরা মহাসড়কের ওপরই বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করছেন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। শহরের অন্যান্য উন্নয়ন কাজ চললেও টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি সংস্কার না করাটা খুবই কষ্টদায়ক।
নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুই যুগ ধরে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। গর্তের কারণে বাস চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে এবং গাড়ির যন্ত্রাংশেরও ক্ষতি হচ্ছে। আমরা বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলেও তারা আমাদের কথা কানে তুলছে না।
জনসাধারণের দাবি, কোনো অজুহাত নয়, দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে টার্মিনালটি সচল করা হোক। এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে, তেমনি মহাসড়কের ওপর ঝুঁকি নিয়ে বাস থামানোর প্রবণতা কমে দুর্ঘটনার হারও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসক ফারাহ্ ফাতিহা তাকলিমা জানান, তিনি বছরখানেক আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। গত কয়েক বছরে কী পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তা নথিতে স্পষ্ট নয়। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, চলতি বছরের বাজেটে টার্মিনাল সংস্কারের জন্য বরাদ্দ রাখা হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন