ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে সংঘটিত এক কিশোরী ধর্ষণ মামলার রায়ে ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিয়েছেন আদালত। গতকাল রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদ- এবং অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- প্রদান করা হয়েছে।
আদালতের রায় অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ (৩) ধারায় প্রধান তিন আসামি মো. আনিস রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলালকে আমৃত্যু কারাদ- দেওয়া হয়েছে। দ-বিধির ৩৫এ ধারার রেয়াত সুবিধা কিংবা জেল কোড অনুযায়ী তারা কোনো ধরনের রেমিশন (সাজা মওকুফ) সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদ- করা হয়েছে।
অপরদিকে, মো. আনিসুর, মো. খতিবুর খতু ও মো. লালুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদ- দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদ- ভোগ করতে হবে।
রায়ে আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, দ-িতদের কাছ থেকে আদায় করা জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে। জরিমানার অর্থ আদায়ে প্রয়োজনে দ-িতদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর এলাকায় ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার চার দিন পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ১৫ বছর পর আজ এই রায়ের ঘোষণা এলো।
রায়ের সময় দ-িত পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে আমৃত্যু কারাদ-প্রাপ্ত প্রধান আসামি মো. আনিস রানা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। এই রায় অত্যন্ত যৌক্তিক এবং এর মাধ্যমে সমাজে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে বলে আশা করছি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন