টানা প্রবল বর্ষণে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি ও বীজতলা তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের ওপর নেমে এসেছে চরম দুর্যোগ। এতে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও দুই পৌর এলাকার প্রায় ৪৭০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ১০ হাজার টাকা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় রোপা আমন ও রোপা আউশ ধানের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০টি রোপা আমনের বীজতলা এবং ২৫টি রোপা আউশের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকায় রোপণ প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ চামরুল, গুনাহার, গোবিন্দপুর, জিয়ানগর, তালোড়া, দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন এবং তালোড়া ও দুপচাঁচিয়া পৌরসভা।
ভুক্তভোগী কৃষক জিল্লুর হোসেন ও শহিদুল ইসলাম জানান, ভালো ফলনের আশায় ধারদেনা করে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক এ অতিবৃষ্টি তাদের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। পানিতে বীজতলা পচে নষ্ট হওয়ায় এখন নির্ধারিত সময়ে মূল জমিতে চারা রোপণ নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তারা বলেন, নতুন করে বীজতলা তৈরির মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারি সহায়তা ছাড়া এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব।
কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পুনর্বাসন বা প্রণোদনা না পেলে চলতি মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হবে, যা স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষি খাতকে বাঁচাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আবেদীন জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছেন এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি অনুদান ও পুনর্বাসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়াসাপেক্ষে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন