ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

অনিয়মের অভিযোগ

বৈদ্যুতিক খুঁটি মাঝখানে রেখেই চলছে ঢালাই

বালাগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৩:০২ এএম

সিলেটের বালাগঞ্জে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ড্রেন নির্মাণকাজে চরম অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডির সাইট ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলে ১৮শ মিটার দীর্ঘ একটি ড্রেন নির্মাণ কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির উৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুই কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের এই প্রকল্পে প্রাক্কলন অনুযায়ী রড না দেওয়া, বালু ও পাথরের পরিবর্তে মাটিযুক্ত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং বৃষ্টির মধ্যে পানি কাঁদার ওপর ঢালাইয়ের কাজ করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ড্রেনের মাঝখান থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই ঢালাই কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে একাজে শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম কর যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে এই ড্রেনটির ভবিষ্যৎ ও স্থায়িত্ব নিয়ে শুরুতেই বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। খুঁটি ড্রেনের মাঝখানে রেখে তার চারপাশ দিয়ে ঢালাই করে দেওয়া হচ্ছে। এতে সামান্য ময়লা-আবর্জনা আটকেই পুরো এলাকা কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এবং কোটি টাকার সরকারি এই প্রকল্প নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে।

অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে দৈনিক অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ ত্রুটিপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কখনো ইঞ্জিনিয়ারের উপস্থিতিতে আবার কখনো তার অনুপস্থিতিতে এসব কাজ হচ্ছে, কিন্তু রহস্যজনক কারণে তদারকির জন্য আসা কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

এসব অনিয়ম, অভিযোগের বিষয়ে নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আবু তাহের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো দায় এড়ানোর চেষ্টা করে তিনি বলেন, এ সাইটে নতুন এসেছি। এখানে আগে যেভাবে কাজ চলছিল, ঠিক সেই নিয়মেই কাজ করে যাচ্ছি। এবিষয়ে বক্তব্য না দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নূর আলী টেডার্সের সত্ত্বাধীকারী মোস্তাক আহমদ বলেন, সন্ধ্যার পর দেখা করব। রড কম দেওয়ার অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারি ইঞ্জিনিয়ার রেদওয়ানুল হাসান বলেন, কাজটি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটির সাইট সরিয়ে দিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে। তবে অন্যান্য অনিয়মের বিষয়গুলো নিয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আজমীর শরীফুল ইসলাম বলেন, প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়া কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম দেখলে এলাকাবাসী যেন কাজ বন্ধ করে দেয়।

উল্লেখ্য, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বালাগঞ্জ-তাজপুর রোডের পাশে ১৮ মিটার এর ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনিয়ম বন্ধ, রড ও অন্যান্য উপকরণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করে পুনরায় মানসম্মতভাবে ড্রেনটি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বালাগঞ্জবাসী। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।