ঝিনাইদহের মহেশপুরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছিলেন অনার্সপড়ুয়া শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক। অথচ জুলাই যোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই শেষে প্রকাশিত গেজেটে ৩৯ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও সেখানে জায়গা হয়নি তার।
আব্দুর রাজ্জাক মহেশপুর পৌর শহরের গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গেজেটভুক্ত অনেকেই প্রকৃত যোদ্ধা নন; প্রশাসনের যোগসাজশে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন সকালে মহেশপুরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি চালালে আব্দুর রাজ্জাকসহ একাধিক আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় রাজ্জাকের হাতে ও কোমরে দুটি শটগানের গুলি লাগে। পরে তারা মহেশপুর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় শাকিল জানান, ‘গুলিবিদ্ধ হয়ে আব্দুর রাজ্জাক হাসপাতালে আসেন। হাতে ও কোমরের পেছন দিকে দুটি গুলি লেগেছিল, সেগুলো অপারেশনের মাধ্যমে বের করা হয়।’
জুলাই যোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আহত অমিত হাসান বলেন, ‘আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সঙ্গে আন্দোলনে ছিলেন। পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হয়েছিলেন, অথচ তার নাম তালিকায় নেই।’
মহেশপুর পৌরসভার কর্মচারী মজনু জানান, হাসপাতালের রেজিস্টারে ৪৮ নম্বরে রাজ্জাকের নাম রয়েছে। এ কারণেই তার কাছে তালিকা পূরণের ফরম পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি।
আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে প্রথমে পুলিশ কেস বলে আমাদের চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করা হয়। পরে বাগবিত-ার পর চিকিৎসা পাই। হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে আমার নাম রয়েছে। ফরম পূরণ করে সব কাগজপত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছিলাম। তখন তিনি প্রেসক্রিপশনের মূল কপি নেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা থেকে আমার নাম বাদ দেওয়া হয়। অনেক ভুয়া নাম তালিকায় ঢুকে গেছে।’
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতু বলেন, ‘ডিসি অফিস থেকে আব্দুর রাজ্জাকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে আমার কিছু করার ছিল না। তার কাছ থেকে প্রেসক্রিপশনের মূল কপি নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’