মাগুরার শ্রীপুরে একটি মাদ্রাসায় সুপারের খাবার আনতে দেরি হওয়ায় জুনায়েদ হোসেন (১২) নামে এক শিক্ষার্থীকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার নাকোল-কমলাপুর দারুল উলুম ইসলামি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর এই নির্যাতনের ঘটনায় শিশুটির বাবা বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) নাকোল পুলিশ ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নির্যাতনের শিকার জুনায়েদ মাগুরা শহরের আদর্শপাড়ায় ভাড়া বাড়িতে থাকা সুজন মিয়ার ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, বরং কাউকে কিছু না জানাতে ভয় দেখিয়ে মাদ্রাসায় আটকে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জুনায়েদ কোনোভাবে পালিয়ে বাড়ি ফিরে আসার পর বিষয়টি প্রকাশ পায়।
জুনায়েদের বাবা জানান, চার বছর আগে ছেলেকে হাফেজ বানানোর জন্য ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু প্রায়ই তুচ্ছ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবু সাইদের হাতে নির্যাতনের শিকার হতে হতো জুনায়েদকে। বুধবার রাতে সুপারের খাবার আনতে তাকে পাশের একটি বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে গৃহস্থের খাবার প্রস্তুত করতে দেরি হওয়ায় ফিরতেও সময় লাগে। এ কারণে সুপার জুনায়েদকে শাস্তি দেন বলে অভিযোগ।
জুনায়েদের ভাষ্য, রাত ৯টার দিকে খাবার নিয়ে মাদ্রাসায় ফিরলে সুপার দুই ছাত্র ওয়ালিদ ও সিজানকে দিয়ে তার হাত বেঁধে মুখে বালিশ চাপা দেন এবং পরনের কাপড় খুলে ফেলেন। এরপর মোমবাতির আগুনে স্টিলের খুন্তি গরম করে শরীরে ছ্যাঁকা দেন। বিষয়টি প্রকাশ করলে আরও মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসা সুপার আবু সাইদ বলেন, ‘আমি রাতে মাদ্রাসায় তালা দিয়ে নিজের ঘরে যাই। কখন কী ঘটেছে জানি না।’
নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মুকুল হোসেন জানান, শিশুটির বাবার অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।