সিলেটে চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) বোলিংয়ে আলো ছড়ালেন নাসুম আহমেদ। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করল নবাগত দল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে নোয়াখালীকে ৬ উইকেটে হারাল সিলেট। এ নিয়ে হায়দার আলী নেতৃত্বাধীন নোয়াখালী টানা চতুর্থ ম্যাচে হারল। অন্যদিকে জয়ে ফিরল সিলেট টাইটানস। ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬১ রান করে নোয়াখালী। জবাবে ৬৮ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে সিলেট। মামুলি লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় তারা। ৫ বল খেলে মাত্র ১ রান করে আউট হন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৫৩ রান। তৌফিক খান আউট হন ৩২ রানে। পরের উইকেটে নেমে আফিফ হোসেন করেন মাত্র ২ রান। আর জাকির হাসান ফিরেছেন ২৪ রান করে। পঞ্চম উইকেটে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও মঈন আলি মিলে জয় নিশ্চিত করেন। ১ রানে মঈন ও ওমরজাই অপরাজিত থাকেন।
এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নামে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। কিন্তু নাসুম আহমেদের ঘূর্ণিই সামলাতে পারেননি নোয়াখালীর ব্যাটসম্যানরা। ৪ ওভার বল করে মাত্র ৭ রানের খরচায় ৫ উইকেট উইকেটে নেন নাসুম। এটাই তার বিপিএলের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। সেই সঙ্গে বিপিএলে যেকোনো স্পিনারের সেরা বোলিং ফিগারও এটি। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে সর্বোচ্চ ২৫ রানের ইনিংসটি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের। এ ছাড়া ১৮ রান করেন ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান। বাকি ব্যাটসম্যানরদের কেউই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। ম্যাচসেরা হন নাসুম আহমেদ।
বিপিএলে নাসুমের রেকর্ড :
নবাগত দল নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে মাত্র ৭ রান দিয়ে প্রতিপক্ষের ৫টি উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখান নাসুম আহমেদ। তার এই বোলিং বিপিএল ইতিহাসে ফাহিম আশরাফের সঙ্গে যৌথভাবে চতুর্থ সেরা। গত মৌসুমে সিলেটের ফ্র্যাঞ্চাইজির বিপক্ষে ৭ রানে ৫ উইকেট পান ফরচুন বরিশালের হয়ে খেলা এই পাকিস্তানি পেসার। বিপিএল ইতিহাসে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড তাসকিন আহমেদের। গত আসরে ঢাকার বিপক্ষে ১৯ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন রাজশাহীর এই পেসার। দ্বিতীয় সেরা বোলিং পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমিরের। ২০২০ সালে খুলনার হয়ে ১৭ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। তৃতীয় সেরা বোলিংও এক পাকিস্তানের। ২০১২ সালে রাজশাহীর হয়ে ৬ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। নাসুমের তোপে পড়ে নোয়াখালীর মাত্র দুজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করতে পেরেছেন। ১৬ বলে ১৮ রান করেন হাবিবুর রহমান সোহান।
৩২ বলে দলীয় সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। নাসুম ছাড়া একটি করে উইকেট নেন আমির, খালেদ আহমেদ, আজমাতুল্লাহ ওমারজাই ও মেহেদী হাসান মিরাজ। অন্যদিকে, বিপিএলে সর্বনি¤œ দলীয় রানের তালিকায় চারে নোয়াখালীর ৬১ রান। ২০১৯ সালে রংপুরের বিপক্ষে কুমিল্লার ৬৩ রানের পর এই প্রতিযোগিতায় এটাই সর্বনি¤œ দলীয় রান। ৪৪ রান করে সর্বনি¤œ রানের লজ্জা খুলনার, ২০১৬ সালে রংপুরের বিপক্ষে।

