ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

গোল্ডেন বুটের আসল সমীকরণ

সান্ত্বনার ম্যাচে কি ভাগ্য খুলবে এমবাপ্পে-কেইনদের 

মাঠে ময়দানে ডেস্ক 
প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৭:৩৬ এএম

ফুটবল বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে হেরে শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি নিয়ে খেলোয়াড় কিংবা সমর্থকদের মাঝে খুব একটা আগ্রহ থাকে না। অনেকেই একে স্রেফ ‘সান্ত¡নার ম্যাচ’ বা নিয়মরক্ষার লড়াই বলে মনে করেন। তবে মাঠের লড়াই ট্রফির জন্য না হলেও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মানের ক্ষেত্রে এই ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোল কি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যোগ হয়? উত্তর হলোÑ হ্যাঁ, ফিফার অফিসিয়াল নিয়ম অনুযায়ী এই সান্ত¡নার ম্যাচের গোলও গোল্ডেন বুটের মূল তালিকায় গণ্য করা হয়।

ফিফার নিয়মানুযায়ী, গ্রুপপর্ব থেকে শুরু করে নকআউট, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনালÑ মূল টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচের গোলই গোল্ডেন বুটের জন্য গণনা করা হয়ে থাকে। তবে টাইব্রেকারের পেনাল্টি শুটআউটের গোলগুলো এই তালিকায় যুক্ত হয় না। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, অতীতে বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি ফুটবলার এই ম্যাচটিতে গোল করেই নিজেদের গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করেছিলেন। ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির টমাস মুলার, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকর, ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালির সালভাতোরে শিলাচি এবং ১৯৩৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের লিওনিদাসÑ তারা সবাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেই শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার নিজের করে নিয়েছিলেন।

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপেও গোল্ডেন বুটের লড়াই জমে উঠেছে নাটকীয়ভাবে। বর্তমানে ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে, তবে অ্যাসিস্টের দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে আছেন মেসি। তাই ফ্রান্স বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে কিংবা ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের জন্য গোলসংখ্যা বাড়িয়ে মেসিকে ধরে ফেলার বা ছাড়িয়ে যাওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ।

যদি টুর্নামেন্ট শেষে দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান থাকে, তবে গোল্ডেন বুট বিজয়ী নির্ধারণে ফিফা নির্দিষ্ট কিছু টাইব্রেকার নিয়ম অনুসরণ করে। গোল সমান হলে প্রথম দেখা হয় অ্যাসিস্টের সংখ্যা, অর্থাৎ কে সতীর্থদের দিয়ে বেশি গোল করিয়েছেন। গোল এবং অ্যাসিস্ট দুটিই সমান হয়ে গেলে তখন দেখা হয় কে মাঠে সবচেয়ে কম সময় খেলেছেন। অর্থাৎ, কম মিনিটে বেশি গোল ও অ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড়ই পুরস্কার পাবেন। আর সে কারণেই শনি ও রোববারের শেষ দুটি ম্যাচ কেবল জয়-পরাজয়ের নয়, বরং গোল্ডেন বুটের ভাগ্য নির্ধারণেরও মহাকাব্যিক মঞ্চ।